কত ছোট ছোট ঘটনা।
বয়স বিবেচনায় রাস্তায় এক বৃদ্ধকে ছেড়ে দিলাম রঙের বালতি হাতে আমরা। বৃদ্ধ ফিরে এসে অভিমান নিয়ে বললেন, “আমাকে রঙ দিলানা?” রিক্সা দিয়ে যেতে যেতে আমাদের সামনে এসে হুড খুলে দিচ্ছে তরুনী মেয়েরা। মিষ্টির দোকানে বিনে পয়সায় মিষ্টি বিলানো হচ্ছে। পুলিশ কন্সটেবল এসে আদ্র চোখে জিজ্ঞেস করছে, “ভাই, আমরা ওয়াল্ডকাপে খেলুম, সত্যি?” সবাই জানে এটা। তবু তিনি আমাদের মুখে শুনতে চান। মা-খালারা হঠাৎ করেই ফোনে রান্না-সন্তানের আলাপ বাদ দিয়ে ক্রিকেটের কথা বলেন। বাসায় অসংখ্য পতাকা থাকা সত্ত্বেও নতুন পতাকা কিনে আনেন। ছোট চাচা ফোনে বাবাকে বলেন, “দাদা, চোখ দিয়ে এমনিতেই পানি পড়ছে… কী করবো বলেন তো?”
সেই সময়ের কথা ভাবলে চোখ কেমন জ্বালা করে ওঠে। দেশ যতোই খারাপ খেলুক না কেনো, রাগ করে থাকতে পারি না।
এরপর ১৯৯৯ বিশ্বকাপের আগে দিয়ে লাকী আখন্দ অনেকদিনের অবসর ছেড়ে তাঁর এই গান নিয়ে আসেন।
|
হঠাৎ করে বাংলাদেশ
গীতিকার: লাকী আখন্দ (সম্ভবত)
সুরকার: লাকী আখন্দ
শিল্পী: লাকী আখন্দ
বিশ্বকাপে দেখো হিম-শীতলের দেশে
জমেছে ক্রিকেট পুরোটা।
সাউথ আফ্রিকা নিয়ে যাবে কাপটা
ভাবছে সবাই এ কথা।
ওয়েসী ইন্ডিজ নাকি অস্ট্রেলিয়া পেলো
লংকা দুখের ঝাপটা।
শচিন না হলেও ওয়াসিম আক্রাম
জয় করে নেবে কাপটা।
বলতে পারি না আজ
কার হবে সেই মালা
স্বপনের সুবাস মাখা।
আমাদের হৃদয়ে
সবুজের মাঝখানে
বিজয়ের সূর্য আঁকা।
হঠাৎ করে বাংলাদেশ, চারিদিকে বাংলাদেশ।।
আলোর কিছু থাকছে রেশ
এতেই ভালো লাগছে বেশ।
হঠাৎ করে বাংলাদেশ, চারিদিকে বাংলাদেশ।।
আলোর কিছু থাকছে রেশ
এতেই ভালো লাগছে বেশ!
অচেনা নতুন ভোরে
আমাদের চোখে ধরে।।
আগামীর মাঠে বোনা
ফসলের আবেশ।
হঠাৎ করে বাংলাদেশ, চারিদিকে বাংলাদেশ।
আলোর কিছু থাকছে রেশ
এতেই ভালো লাগছে বেশ!
দূরের আকাশে আজ অবিরাম উড়ছে
উচ্ছ্বাসে কিছু পতাকা
বিশ্বকাপে দেখো আমাদেরও নাম লেখা
ডানা মেলে থাকা বলাকা।
হঠাৎ করে বাংলাদেশ, চারিদিকে বাংলাদেশ।
আলোর কিছু থাকছে রেশ
এতেই ভালো লাগছে বেশ!
হঠাৎ করে বাংলাদেশ, চারিদিকে বাংলাদেশ।
আলোর কিছু থাকছে রেশ
এতেই ভালো লাগছে বেশ!
প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন, ৩০ জানুয়ারি ২০০৯
0 টি মন্তব্য:
Post a Comment