একদম হুট করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।
শস্যপর্ব প্রকাশক নজমুল আলবাব ভাইয়ের সাথে জিটকে বই, বইমেলা, ইত্যাদি নিয়ে কথা হচ্ছিলো। কথার ফাঁকে পূর্ব চিন্তা ছাড়াই দু’জনে ঠিক করে ফেললাম এবারের বইমেলায় আমার নতুন আর বাছাই করা কিছু গল্প নিয়ে আলবাব ভাইয়ের প্রকাশন শস্যপর্ব থেকে একটা বই হবে।
পুরানো গল্প-বাছাই আর নতুন গল্পগুলো
বই হবে ঠিক করে ফেলার পর শুরু হলো গল্প-বাছাই।
আগে সেভাবে খেয়াল করিনি কিন্তু গল্প বাছাই করতে গিয়ে দেখলাম আমার আসলে অনেক গল্প জমে গেছে। অধিকাংশই সংবাদপত্র, পত্রিকায়... কিছু ব্লগ, ই-পত্রিকায় প্রকাশিত। গল্প বাছাই করতে গিয়ে যা হলো - নিজের লেখা প্রায় সব গল্পই পড়া হয়ে গেলো। "প্রায়" বলছি এই কারণে যে সংবাদপত্র প্রকাশিত আমার কয়েকটা গল্প হারিয়ে গেছে। যখন প্রকাশিত হয়েছিলো তখন কোনো কারণে সংরক্ষণ করে রাখা হয়নি। এখন সেগুলো আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
আরেকটা জিনিস খেয়াল দেখলাম, এই ক’বছরে আমি বিভিন্ন ধরণের গল্প লিখেছি - রম্যগল্প বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ভৌতিক থেকে শুরু করে কিশোরগল্প পর্যন্ত। এ ধরণের গল্পগুলো বিশেষ বিভাগে পড়ে বলে বইয়ে দেবো না বলে ঠিক হলো। জমতে থাকুক। যদি কপালে থাকে পরে কোনো এক সময় (শুধু আমার ছোট ভাইয়ের জন্য হলেও) বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী কিংবা কিশোরগল্পের সংকলন করা যাবেখন! আমার পছন্দের কিছু অণুগল্পও আছে। আকার আর বিষয়বস্তুর জন্য সেগুলোও বাদ পড়ে গেলো (এমন কিছু অণুগল্প নিয়ে আমার বিনে পয়সার ই-বই "ফেলে আসা গল্প যতো")।
গল্প বাছাই করতেই চলে গেলো একমাস। এরপর বসলাম পরিমার্জনে। প্রকাশিত গল্পগুলো সবই পরিমার্জন করেছি - কিছু সামান্য, কিছু আগাগোড়া। ঢাউস আকারের দু’টো নতুন গল্পও লিখে ফেললাম। গল্পদু'টো এতো বড় যে চরিত্র সংখ্যা একটু বেশি হলে এই দু’টোকে বড়গল্প না বলে উপন্যাসিকাই বলতাম।
সব মিলিয়ে শেষ-মেষ গল্প সংখ্যা দাঁড়ালো নয়।
তেমন পরিমার্জন করা হয়নি এমন তিনটা গল্পের লিংক দেই -
» না বলা কথা, সচলায়তন লিংক, রচনাকাল: সেপ্টেম্বর ২০০৭
» পালিশ, সচলায়তন লিংক, রচনাকাল মার্চ ২০০৮
» প্রতিসরণ, সচলায়তন লিংক, রচনাকাল: মার্চ ২০০৬
নামকরণ
নামকরণ নিয়ে অনেক আলাপ হয়েছে বন্ধুদের সাথে। কাছের বন্ধু, দূরের বন্ধু, ব্লগের বন্ধু। অনেকেই বলেছেন কোনো গল্পের নামেই বইয়ের নাম রাখতে। কেউ নাম প্রস্তাব করেছেন। কিচ্ছু মনে ধরেনি। মনে হচ্ছিলো বইয়ের ছাঁদের সাথে যায় এমন একটা নাম দরকার।
এরপর হঠাৎ একদিন রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে আমি কোনো এক ঘোরের চলে যাই। বাসায় এসে, রাতে বিছানায় শুয়েও আমি সেই ঘোর থেকে বেরুতে পারি না। ছটফট করতে করতে উঠে আসি। সাদা কাগজে লিখি বইয়ের নাম - "বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময়।" আর সেই ঘোর-মাখা কথাগুলোই হয়ে যায় বইয়ের "প্রারম্ভিক"।
প্রচ্ছদ
"গন্দম" বের করার আগে প্রচ্ছদ নিয়ে খুব ঝামেলায় পড়েছিলাম। কোনো প্রচ্ছদ পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায় তা পছন্দ হয় না। শেষে দিন বাঁচালো হিমন। আলবাব ভাই কুরিয়ারে সিলেট থেকে হিমনের করা প্রচ্ছদ পাঠালেন। আমি হাতে পেয়ে চমকে উঠলাম। এক কথায় - দুর্দান্ত!
এবারও সেই হিমনেরই প্রচ্ছদ করার কথা ছিলো। দু'টো প্রচ্ছদ সে করেও ছিলো। কিন্তু একটা প্রচ্ছদও পছন্দ হলো না। জ্ঞানি মানুষ বলেন, "If you want something done right, do it yourself", তাই করলাম। একদিন সারারাত জেগে নিজেই বানিয়ে ফেললাম প্রচ্ছদ। বানিয়েই ইমেইল করলাম সুজন’দাকে। আর্টিস্ট মানুষ - উনার মতামতের একটা দাম আছে। উনি খুব পছন্দ করলেন। প্রকাশকও পছন্দ করলেন। আমার করা প্রচ্ছদই ফাইনাল হয়ে গেলো।
এখানে একজনকে ধন্যবাদ না জানালেই নয়। তিনি সুপ্রিয় নজরুল ইসলাম ভাই। আমার প্রচ্ছদ হচ্ছে না জেনে তিনি ব্যাপারটা স্বইচ্ছায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। খুব আপন না ভাবলে কেউ কখনো এমন করে না।
সবশেষে
বইটা বেরুচ্ছে ২০ ফেব্রুয়ারি, বইমেলায়। শস্যপর্ব থেকে। পরিবেশক শুদ্ধস্বর। তাই বইটা পাওয়া যাবে লিটলম্যাগ কর্নার আর শুদ্ধস্বর (স্টল-১৯৪) দুই জায়গাতেই।
"বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময়" নিয়ে আমার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই, যা আছে তা হলো মমতা, ভালোবাসা আর গর্ব। গল্পগুলো খুব যত্ন করে লেখা। খুব মন দিয়ে বাছাই করা। এই এক টুকরো বইয়ে মিশে আছে অনেকখানি আমি। একজন লেখকের কাছে এরচেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে?
© অমিত আহমেদ
ছবি কৃতজ্ঞতা: Raiyan Kamal @ Flicker

অভিনন্দন, শুভকামনা - প্রিয় লেখক, বন্ধু।
ReplyDeleteবই বেরুনোর পেছনে তোমার, তিথি আর তারেকের অবদান না বললেই না... থ্যাংকস।
ReplyDelete