এক
ক'মাস আগে পুরানো পোস্টগুলো নেড়ে-চেড়ে দেখছিলাম। অনেক বানান ভুল। তখন নতুন বাংলা টাইপ শিখেছি, বাংলা লিখতে পারছি সেই আনন্দেই আত্মহারা ছিলাম। বানানে আর সেভাবে নজর দেয়া হয়নি। আর সত্যি কথা বলতে কী, অনেকদিনের অনভ্যাসে সব বানান ঠিক মতো মনেও পড়তো না। অজুহাত বলতে এই। এখনো হয়তো সব বানান শুদ্ধ ভাবে লিখতে পারি না, তবে এখন ভুলগুলো অনিচ্ছাকৃতই বেশি। টাইপো।
মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে একদম প্রথম পোস্ট থেকে শুরু করে একে একে সব পোস্টের বানান ঠিক করি। আগ্রহ আছে। সময় নেই!
দুই
ক'দিন আগে গুগলে "গোপাল ভাঁড়" খোঁজ করে দেখলাম এখানে প্রকাশ করা গোপালের কৌতুকগুলো দাড়ি-কমা সহ অন্য ব্লগে ফোরামে আর সাইটে তুলে দেয়া হয়েছে। এতে আমার আপত্তির কোনো কারণ নেই। লেখাগুলো মৌলিক কিছু নয়। আমি ব্লগেও লিখে রেখেছি যে প্রকাশিত কৌতুকগুলো যে কেউ ব্যবহার করতে পারবেন কেবল সূত্র হিসেবে আমার ব্লগের একটা লিংক দিয়ে দিতে হবে। নানান জায়গা থেকে খুঁজে-পেতে সেরা গোপাল ভাঁড় প্রোজেক্টের জন্য নিজের মতো করে কৌতুকগুলো লিখেছি। সেই কষ্টের প্রতি সম্মান দেখিয়ে একটা লিংক তো রাখাই যেতো!
তিন
সেদিন ক্যাম্পাসে বিশ ডলারের একটা নোট কুড়িয়ে পেলাম। টরন্টোর রাস্তায় পেনি কিংবা ডাইম অহরহ নির্লিপ্ত ভাবে পড়ে থাকে। পূর্ব ইউরোপের মানুষ ছাড়া আর কেউ তুলে নেবার প্রয়োজনও বোধ করে না। ওদের একটা ব্যাপার আছে, রাস্তায় পয়সা কুড়িয়ে পাওয়াটা ওদের সৌভাগ্যের প্রতীক। কিন্তু এভাবে বড় ডলারের বিল কুড়িয়ে পেলে কেমন যেনো হতভম্ব হয়ে যেতে হয়। অনেকে বলবে দান করে দিতে, শেষে তাই হয়তো করবো, কিন্তু অন্যের টাকায় মহামানব সাজাতে কেমন জানি লাগে। হয়তো কোনো শিক্ষার্থীর দুই বেলার খাবার ছিলো এই টাকাটা। কিংবা কাজের ফাঁকে ফাঁকে কফিতে চুমুক দেবার সম্বল। কিংবা পাঠ্যপুস্তক কেনার জন্য সদ্য এটিএম থেকে তুলে নেয়া। এসব ভাবনার মাঝে টাকাটা ওয়ালেটে কাঁটার মতো বিঁধে থাকে।
চার
প্রবাসে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙালি সংগঠন দেখলাম। এসব সংগঠন উদ্যোক্তাদের প্রধান উদ্দেশ্য কী তা কোনো মতেই ধরতে পারি না। আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি আমার স্বল্পবুদ্ধিতে চারটি প্রধান উদ্দেশ্য লিখে দেবো -
১) বাংলাদেশ থেকে আগত নতুন শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা।
২) প্রবাসে বাঙালি ঐতিহ্য, সাহিত্য, সংস্কৃতির প্রচার করা।
৩) বাংলাদেশ/বাঙালির যে কোনো সংকটে প্রবাসে জনসংযোগ রক্ষা করা ও বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করা।
৪) প্রবাসী বাঙালিদের পারস্পরিক সংযোগ বৃদ্ধি করা।
আমার দেখা (নিচে দাগ দিয়ে দিলাম কারণ অনেকেই মন খারাপ করে বলবেন তাদের সংগঠন মোটেই এমন নয়) কোনো বাঙালি সংগঠনই প্রথম তিনটা উদ্দেশ্য তেমন পাত্তা দেয় না। "প্রবাসী বাঙালিদের পারস্পরিক সংযোগ" তাও কিছুটা রক্ষা হয়, তবু সেটা নিজেদের কয়েকটা দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে বলে আমার ধারণা। একদম মোটা দাগে বলতে হলে বলা যায় - বাঙালি সংগঠনগুলোর মূল কাজ হলো ফুর্তি করা। পার্টি হবে, বল হবে, ফর্মাল হবে... ফুর্তি করা যায় এমন সব হবে, কিন্তু কাজের কাজ হবে না। ফুর্তি মন্দ কিছু না, কিন্তু এই ফুর্তি করতে গিয়েও প্রথম তিনটা উদ্দেশ্যের শ্রাদ্ধ করা হয়। "বাংলাদেশ কালচারাল শো"-র নামে হিন্দি গান বাজিয়ে বলিউড নৃত্য আর পাশ্চাত্য জামায় ফ্যাশন শো তো একটা সাধারণ ব্যাপার হয়ে গেছে।
দেশ ও বাঙালির সংকটে কোনো সংগঠনকেই কখনো কাছে পাইনি। একলাই চলতে হয়েছে। সিডরের পর অনেক বলেও বাঙালি সংগঠনকে দিয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে কিছু করাতে পারিনি। সবাই বলেছে আগামী মাসে কনসার্ট হবে, সেই কনসার্টের টাকা দেশে পাঠানো হবে। এতো বড় দুর্যোগের একমাস পরে টাকা পাঠালে সেটা কতটা কার্যকরী? কনসার্ট ঠিক আছে, কিন্তু তার আগেও আমরা অর্থ সংগ্রহ করতে পারতাম। ৫০০ শিক্ষার্থী ৫ ডলার করে দিলেও ২৫০০ ডলার হয়ে যাচ্ছে, মানে ১৫১৮০০ টাকা। স্কুলে দানবাক্স খুলেও অর্থ সংগ্রহ করা যেতো। কেউ কথা কানে নেয়নি। (সিডরের সময় আমাকে বরং সাহায্য করেছিলো ইউনিয়ন কিউপি - বাংলাদেশের সাথে যাদের কোনো সংযোগ নেই।) ক'মাস আগে মুক্তিযোদ্ধা এস এম খালেদকে বাঁচাতে বাঙালি সংগঠনের সাথে একটা চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের কথা বলেছিলাম। ৫ ডলার করে টিকেট, ২ ডলারে সিঙারা-সামোসার ব্যবস্থা। টাকা যা উঠবে সব তহবিলে জমা হবে। ওরা প্রথমে করবে বলে আশা দিয়েও পরে নানান সমস্যার কথা বলে পাশ কাটিয়ে গেলো। অথচ তার কিছুদিন বাদে আরো বেশি ঝামেলা সহ্য করে বিশাল এক উৎসবানুষ্ঠান ঠিকই আয়োজন করে ফেললো। এই যে এখন সাইক্লোন আইলার তান্ডব শেষে দেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। কোনো সংগঠনেরই কোনো মাথা ব্যাথা দেখি না এই নিয়ে। মন্দের ভালো যা তা হলো শখ হলে (বড় কোনো অনুষ্ঠানে, উপস্থিত সব মানুষের সামনে ঘোষণা দিয়ে) সংগঠনগুলো মাঝে মাঝে কিছু টাকা কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করে। থাকুক, না হয় কানামামাই সই।
পাঁচ
দিনকাল ইদানিং খুব ভালো যাচ্ছে না। মানুষের সাথে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। গোয়ার্তুমির কারণে এসব সমস্যা সমস্যা হিসেবেই থেকে যাচ্ছে, সমাধান আসছে না। আমি যে এসব খুব পরোয়া করি তাও না। তবু একাধারে একই ধরণের ঘটনা দেখলে একটু দমে যাই। এদিকে আমার দোস্ত শিবলীর বিয়ে হচ্ছে। সেই বিয়েতে থাকার ইচ্ছে ছিলো। সেই সুযোগও হলো না। ঝামেলার মাঝে আমার সব সময় বাবা-মা-ভাই পরিজনদের কথা মনে পড়ে। তাই দেশে যাবো। বন্ধুর বিয়ে শেষে, না হয় একটু দেরি করেই যাবো। তবু তো সকালে উঠে মার বানানো পরোটা খাবো। দুপুরে একা একা দেশের মাটি দাবড়িয়ে বেড়াবো। রাত্তিরে আবার ভালো ছেলের মতো বাসায় ফিরে বাবার সাথে ভাত খাবো। এরচেয়ে চিন্তাহীন জীবন আর হয় না!
ছয়
গান নিয়ে আমার কোনো শুচিবাই নেই। রক, পপ, টেকনো, মেলো, মেটাল, রিমিক্স, র্যাপ, রেগে... বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, আরবি, স্প্যানিশ, ফারসি... যা পাই তাই শুনি। কোনোটা ভালো লাগলে সেটা বার বার শুনি। অনেকে ফুয়াদ-হাবিব-বালাম জেনারেশনকে নিয়ে কটু কথা বলেন। আমি মন্দ কিছু দেখি না।
প্রবাসে আসার আগে, সেই ১৯৯৯ এর দিকে, যখন কলেজ সবে শেষ করেছি, আমাদের সবার গাড়িতে গান মানেই ছিলো মেটালিকা-স্করপিওনস-বনজোভি, মডার্ন টকিং-এয়ার সাপ্লাই-ডায়ার স্ট্রেইটস, কিংবা খুব কাছাকাছি হলে বোম্বে ভাইকিংস-শান-জুনুন। বাংলা গানের সিন ছিলো কেবল আমাদের বাবা-মা'দের গাড়িতে। তাও সেটা রবীন্দ্র-নজরুল-লালন আর ভারতীয় আধুনিক বাংলার বাইরে যেতো না। আর দূরপাল্লার বাস মানেই তো ছিলো হিন্দি গান।
সেই অবস্থা কিন্তু আর নেই। এখন দেশে দেখি সব দোস্তের গাড়িতেই বাংলা সিডি বাজছে। সদ্য ওড়না পরা মেয়ে শুনছে ফুয়াদ-বালাম, আর সদ্য গোঁফ ওঠা ছেলেরা শুনছে আর্বোভাইরাস-আর্টসেল। বয়স্কদেরও দেখি বাংলা আধুনিক গান আর ন্যান্সি-হাবিবের গান শুনতে। বেশিরভাগ সিডির দোকানে নয়া বাংলা সিডি বাজে। মনটা ভরে যায় দেখলে!
আমি বাংলাদেশের আন্ডারগ্রাউন্ড রক ব্যান্ডগুলোর দারুন ভক্ত। দেশে গেলেই এক-দু'টো কনসার্ট দেখে ফেলি। ছেলেগুলোর দুর্দান্ত মিউজিক সেন্স। আমার প্রিয় ব্যান্ড যে আর্বোভাইরাস সেটা আমার আগের ব্লগ আর বই পড়েই বুঝে ফেলার কথা। আরো শুনি স্টেনটোরিয়ান, আইকনস, ক্রিপটিক ফেট, ফুলবানুস রিভেঞ্জ, কপরোফিলিয়া, পাওয়ারসার্জ, রিবর্ন, দূরে, ইত্যাদি। শুনে দেখতে পারেন। অর্থহীন, ওয়ারফেজ, আর আর্টসেল এখন আর আন্ডারগ্রাউন্ড নেই, মেইনস্ট্রিমে ঢুকে গেছে। আর ব্ল্যাকের গান আমার কখনোই তেমন ভালো লাগেনি।
একটা কথা - সঙ্গীত শিল্পীদের পোশাক আর চলন-বলন নিয়ে অনেককেই অনেক কথা বলতে শুনি। কথা চলতেই পারে, কিন্তু তা দিয়ে তাদের সঙ্গীত কেনো যাচাই করা হবে?
© অমিত আহমেদ
আমি কালকে দুইটা পঞ্চাশ ডলারের নোট পড়ে থাকতে দেখেছি। একদম ফাঁকা রাস্তা ছিল। আমার নিজের দুর্দিন যাচ্ছে, একশ ডলার আমার চার সপ্তাহের ইনকাম। তাই বলে তোলার কথা ভাবতেও পারি নি। মনে অপরাধবোধ লাগছিল, কারণ আমার উচিত ছিল টাকাটা তুলে পাশের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করা, ওদের কারো টাকা ভুলে পড়ে গিয়েছে কি না। খুব খারাপ লাগছিল, আহারে, আমার মত কোন অসাবধানী বান্দা টাকা হারিয়েছে। সময় খরচ করার এনার্জি ছিল না, চোরের মত মনে মনে শুধু দোআ করলাম, 'O Allah please reach this money to its rightful owner'.
ReplyDeleteআপনি যা করেছেন তাই হয়তো ঠিক ছিলো। আপনার দুর্দিন কেটে যাক সেই আশা করি। ভালো থাকবেন।
ReplyDelete