আজ আর গতকাল মিলে বেশ বৃষ্টি হলো। গতকাল বৃষ্টিভেজা রাতে বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলা দেখেছি। খেলায় সবাইকে এতো আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিলো যে মুহূর্তের জন্যও আমার মনে হয়নি যে আমরা হারতে পারি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আমার শুভেচ্ছা।
এই বৃষ্টির খুব দরকার ছিলো। গরম কমাবার জন্য নয়, কৃষকদের জন্য। প্রতিদিন সংবাদপত্রে পড়ছি আর টিভিতে দেখছি পানির জন্য কৃষকদের হাহাকার। পাটচাষী পাটে জাগ দিতে পারছেন না, বেচে দিতে হচ্ছে পানির দরে। আমন-চাষী আমন রোপন করতে পারছেন না। মাঠের ফসল শুকিয়ে ঝামা হয়ে আছে। প্রথমআলো লিখেছে, উত্তরাঞ্চলে ব্যাঙের বিয়ে দেবার ধুম পড়েছে। মহিলার দল গ্রাম ঘুরে ঘুরে পূজো-অর্চনা করে ব্যাঙের বিয়ে দিচ্ছেন। মসজিদে চলছে বিশেষ মোনাজাত। বৃষ্টির জন্য এতো হাহাকার! সেচ ব্যবস্থার এই হাল আমাদের কৃষি প্রধান বাংলাদেশে!
শুনি তেলের দাম, বিদ্যুত/ব্যাটারির দাম, সব মিলিয়ে হাতে-পেটে-খাওয়া কৃষকের কাছে সেচযন্ত্র রাখা মানে হাতি পোষা। আমার এক বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিলো। সে এক এনজিওতে কাজ করে। সে বললো দেশি উপাদানে সেচ যন্ত্র তৈরি সম্ভব; খরচ পড়বে মোটে হাজার খানেক টাকা। সরকার চাইলেই হয়। এনজিওগুলো তো আর এ ধরনের প্রোজেক্টে বিনিয়োগ করতে চাইবে না।
দুই
বাঙালির একটা মজার ব্যাপার আছে। সেটা হলো দলাদলি - কারণ ছাড়া দলাদলি। বাঙালি খুব মিশুক জাতি বলে আমাদের মধ্যে একদম অসামাজিক মানুষ তেমন পাওয়া যায় না; আমরা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে চলতে পছন্দ করি। এই চেনাজানার মধ্যেও আমি দেখেছি অবধারিত ভাবেই কিছু উপদল তৈরি হবে যার একটার সাথে আরেকটার খুব একটা বনে না। অন্য দলকে কিংবা দলের সফল ব্যক্তি/ব্যক্তিদেরকে নিয়ে আজে-বাজে কুটচন্ডালিও চলবে।
পরশু রাতে কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস "বাঁধন-হারা" পড়তে গিয়ে এমন মনে হলো। "সমালোচক" এবং "পরশ্রীকাতর" যে এক নয় তা তিনি লিখেছেন। লিখেছেন, "যাকে হরদম দেখতে পাওয়া যায়, এমন একটি ব্যক্তি যে সারা দুনিয়ায় "মশহুর" একজন লোক হবেন, এ আমরা সইতে পারি নে।" এই ব্যাপারগুলো আগেও লক্ষ্য করেছি, এখনো দেখতে পাই। আগেও রবি ঠাকুর, শরৎচন্দ্রের লেখায় বাঙালির চারিত্রিক গঠন নিয়ে এমন দু'এক লাইন লেখা পড়ে চমকে গেছি! এতোদিন হয়ে গেছে এখনো এভাবে লাইনে-লাইনে কিভাবে মিলে যায়। বাঙালির জাতিগত চরিত্র কি এতোটাই দৃশ্যমান? এতোটাই নিরেট?
তিন
বাংলাদেশে আমার আসার হার কমছে। এবার অবশ্য বেশি দিনের ব্যবধান ছিলো না; গত বছরের ফেব্রুয়ারিতেই দেশে ছিলাম। কিন্তু বৈদেশে যাবার পরে প্রথম ক'বছর যেমন প্রতি গ্রীষ্মে দেশে চলে আসতাম, এখন সেটা আর হয় না। অনেক কিছু হিসেব করে তবেই আসতে হয়। এবার দেশে এসেও মাথায় কাজের চিন্তা জেরবার করে রেখেছে। অনেক কাজ বাকি, অনেক ডেডলাইন সামনে পড়ে আছে। এসব চিন্তা মাঝে মাঝেই দেশে থাকার আনন্দটা কেমন মলিন করে দেয়। ব্যাপারটা খুব দুঃখজনক।
ঢাকায় এবার বেশ ছবি তুলে বেড়াচ্ছি। কারণ আছে বেশ কিছু। প্রথমত প্রবাসে আমার বন্ধুসমাজের প্রায় সবাই ভিনদেশী। ওদের ঢাকা দেখার খুব শখ। অন্তর্জালে ঢাকার ছবি দেখাতে গিয়ে মাঝে মাঝে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাই। সেখানে ছবি মানেই হয় খুব ঋণাত্মক (বস্তির পরে বস্তি, ভিক্ষুকের পরে ভিক্ষুক) না হলে খুব ধনাত্মক (শপিং মল আর অ্যাপার্টমেন্ট, চেইন রেস্তোরা আর আইস্ক্রিম পার্লার)। আমি চেষ্টা করছি এমন ছবি তুলতে যাতে ঢাকার মাঝামাঝি এবং দৈনন্দিন অবস্থাটা কিছু বোঝা যায়। আর লোভীদের দাপটে যেভাবে ঢাকার পরিবর্তন হচ্ছে, আর যেভাবে মৌলবাদ নড়েচড়ে উঠছে, কখন যে কী হয়ে যায় ভরসা পাই না। তাই আমার ঢাকার ছবি আমি আমার কাছে রাখতে চাই।
আমার তোলা কিছু ছবি দেখাই আপনাদেরকে। ছবি বিষয়ক আরো তথ্যের জন্য ছবিতে ক্লিক করতে পারেন।
© অমিত আহমেদ
প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন, ২৭ জুলাই ২০০৯
তিন নেতার মাজার।

দোয়েল চত্বর।

রাজু স্মারক ভাস্কর্যের একাংশ।

শাহবাগ।

প্রায় ১০৫ বছর পুরানো কার্জন হলের পুকুর।

আমাদের মিনিবাস।

পুরান ঢাকার তাঁতিবাজার। অলংকার বাজার।
0 টি মন্তব্য:
Post a Comment