দিন শেষ।
আর ঠিক পাঁচ ঘন্টা পরে আমার বিমান উড়ে যাবে। বাসা থেকে বিদায় নিতে হবে তার দুই ঘন্টা আগেই।
এখন শেষ বেলায় বসে হিসেব কষি - দিনগুলো আমার কেমন গেলো?
হিসেব মেলাতে পারি না।
ইদানিং বাংলাদেশে এসেই আমি চট করে মানিয়ে নিতে পারি না। একটু সময় লাগে - দেশের ভাও বুঝতে; মানুষের ভাও বুঝতে। দেশে বাবা-মা-আত্মীয় আর ছোটবেলার ক'জন বন্ধু ছাড়া কাছের কেউ নেই। ব্লগ, বিশেষ করে সচলায়তন সেই শূন্যস্থান পূরণ করেছে। এখন দেশে আসলে অনেকের সাথেই দেখা হয়, কথা হয়। একদম না দেখা কাউকে চেনা বন্ধুর মতো পিঠে চাপড় দেয়া যায়। হাত থেকে কেড়ে নিয়ে সিগারেটে টান দেয়া যায়। আমার হিসেব তাই ভালো লাগা, কিংবা মন্দ লাগার কথা বলে না। বরং বলে, "সময় বড় কম হয়ে গেলো!"
ঠিক যখন সবার সাথে মিলে যাচ্ছি, ঠিক যখন দেশের ভাও বুঝে নিয়েছি, ঠিক তখনই ঘড়ির কাঁটা বললো, "যা বেটা তুই ফেরত যা!"
আমি তাই ফেরত যাবো। সবাই জিজ্ঞেস করে একেবারে বাংলাদেশে ফিরে আসবো কিনা? এর উত্তর আমি জানি না। মাঝে মাঝে মনে হয়, "কেনো আসবো?" আবার কখনো মনে হয় "আসবো না মানে? অবশ্যই আসবো।" হয়তো এই দো'টানার মধ্যেই ঘুরে ফিরে এক জীবন শেষ হয়ে যাবে।
আজ বিদায়ী আড্ডা ছিলো। অনেকের সাথে যাবার বেলায় জমজমাট আড্ডাতে দেখা হলো। আবার খুব ইচ্ছে থাকা সত্বেও অনেকের সাথে আর দেখা হলো না; সামনা-সামনি কথা হলো না। তাঁদের কাছে আমি আন্তরিক ভাবে ক্ষমাপ্রার্থি।
গতবার বিদায় নেবার সময় যা লিখেছিলাম তাই। এই বিদায় বেলা আমার জীবনে পৌনঃপুনিক দশমিক হয়ে বার বার ফিরে আসে।
তাই আর কিছু না বলি। বরং যাই!
© অমিত আহমেদ
প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন, ১১ আগস্ট ২০০৯
Tuesday, August 11, 2009
Subscribe to:
Post Comments (Atom)



0 টি মন্তব্য:
Post a Comment