Monday, October 12, 2009

সাইফাই গল্প নিয়ে

সাইফাই লিখবো ভেবে গতবছর আঁটঘাট বেঁধে নেমেছিলাম। একটা সাইফাইক্লোপিডিয়াও তৈরি করেছিলাম। সিরিজ সায়েন্স ফিকশনে একটা "লেখক বাস্তবতা" তৈরি করার ব্যাপার থাকে। একটা সমান্তরাল জগৎ, একটা আলাদা সময়রেখা। সেই ধরে নতুন প্রযুক্তি, নতুন জগৎ, নতুন ইতিহাস। আর সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বদলে যাওয়া মানুষ, তার চারিত্রিক গঠন আর মানবিক গুনাবলি। এটা একটা বিশাল ঝামেলার ব্যাপার। অনেক লেখকই অবশ্য বাস্তবতা তৈরিতে তেমন ঝামেলায় যান না। তাঁদের একটা গল্পের বাস্তবতার সাথে আরেকটার মিল থাকে না।

এতে লেখক পাঠক দু'এরই সুবিধা আছে। লেখকের সুবিধা হলো একটা বাস্তবতার বাঁধনে পড়ে থাকতে হয় না। কল্পনার লাগাম ইচ্ছে মতো ছেড়ে দেয়া যায়। বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদ কিংবা মুহম্মদ জাফর ইকবাল এই ধরণের কল্পকাহিনী বেশি লেখেন। এতে পাঠকের সুবিধা হলো একটা গল্প পড়তে গেলে আগের গল্পগুলো পড়া না থাকলেও চলে। আবার গল্প পড়তে পড়তে "দ্রষ্টব্য" ধরে পরিভাষার মানেও খুঁজে নিতে হয় না।

ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি একটা বাস্তবতার কাঠামো তৈরি করে সেই কাঠামো ধরে একাধিক গল্প লেখায় কোনো লাভ নেই। তবে মজা আছে। এই কারণেই স্টারট্রেক, ব্যাটলস্টার গ্যালাকটিকা, ব্যবিলন, হিচহাইকার্স গাইড, কিংবা ফাউন্ডেশনের সেই রকম ভক্ত আমি। কাঠামোর কী বিস্তৃতি! লেখকের কল্পনা যে কেমন দুর্দান্ত হতে পারে তার প্রমান এই টিভি সিরিজ কিংবা গল্প-উপন্যাসগুলো। এ কারণেই হয়তো, অনেক আগে থেকেই আমার নিজের একটা সাইফাই লেখক বাস্তবতা তৈরি করার ইচ্ছা। পুরো ব্যাপারটাই তাই আমার ছেলেমানুষি বলা যেতে পারে। নিজের শখপূরণের চেষ্টা। আপাদত পরিকল্পনা এই সিরিজের ১২টা গল্প লেখার। এরপরে ক্ষ্যামা দেবো। প্রথম গল্পটা ছিলো রোবটলেখক লেখক জিরকন, অভিমানী লেখক সামন্ত স্যান্যাল আর তাঁর সহকারী দলছুট রোবট পাপানকে নিয়ে (লেখকের চোখ)। এই গল্পগুলো অবলম্বন করে আমার কাঠামো আস্তে আস্তে বড় হবে। প্রথম গল্পে বলেছি রোবট বিদ্রহের কথা। তাদের স্বাধীনতা, অন্য গ্রহে-উপগ্রহে তাদের উপনিবেশের কথা। বলেছি নতুন প্রযুক্তি আর ছায়াপথ জুড়ে মানুষের ছড়িয়ে পড়ার কথা। সামনের গল্পতে হয়তো আরো কিছু আসবে।

© অমিত আহমেদ

0 টি মন্তব্য:

Post a Comment