Saturday, February 28, 2009

সামরিক বাহিনীর সৈনিকদেরকে অমিত আহমেদের খোলা চিঠি

পিলখানা বিডিআর সদর দপ্তরে গোলাগুলির খবর প্রথম পাই জিটকে এক বন্ধুর কাছ থেকে। তখনি বাঁধ ভাঙার আওয়াজ ব্লগে ঢুকি; দেখি ব্লগাররা ইতিমধ্যেই লাইভ ব্লগিং শুরু করে দিয়েছেন। এরপরে যোগ দেয় সচলায়তন আর ক্যাডেট কলেজ ব্লগ। আমি তিন ব্লগেই চোখ রেখে ঠায় বসে থাকি। মাঝে মাঝে নানান সংবাদ মাধ্যমের আপডেট; আমাদের আড্ডা সাইটে স্ট্রিমিং বাংলা ভিশন সংবাদ।

নানান গুজব এড়িয়ে পরে যখন নিশ্চিত খবর পাওয়া গেলো ভেতরে কী হচ্ছে তখন; একদম সত্যি কথা বলি; আমার প্রাথমিক চিন্তাটা ছিলো খুবই সরল, "দেখ, এবার মজাটা দেখ!" আমার সহানুভূতি বলেন সমর্থন বলেন আর পক্ষপাত বলেন; সবই ছিলো বিডিআর জওয়ানদের জন্য। ওরা বলেছে ওদের উপর সেনা অফিসারেরা নির্যাতন করে, দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে। সেটা তারা কাদের সাথে করে না?

ভাই শোনেন,
খুব ছোটবেলায় মেজর আনোয়ারের লেখা "হেল কমান্ডো" পড়ে মাথায় মেজরের একটা কথা ঢুকে গিয়েছিলো, "নারীর প্রেমের চেয়ে আমার কাছে দেশপ্রেম অনেক বড়।" আমার স্বপ্ন হয়ে উঠেছিলো বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীতে ঢোকার। সময়ের সাথে কী হলো বলেন তো? কী হলো যে আমার সামরিক বাহিনীর নাম নেবার আগে একটা গালি বসাতেই হয়? কী হলো যে খোদ বাংলাদেশের সেনারা আটক আছেন শুনে আমার কোনো উদ্বেগ আসে না?

আমি জানি, আপনারাও জানেন, বেশির ভাগ বাংলাদেশীদের প্রাথমিক অনুভূতি এমনই ছিলো। এই ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশের মানুষ সামরিক কর্মীদের কোনো সহানুভূতি দেখায়নি। আমার পরিচিত যে ক'জন মানুষ সামরিক বাহিনীতে আছেন তাদের সবার কথাতেই আমি প্রতিশোধ স্পৃহা ছাপিয়ে এই নিয়ে অভিমানটাই বেশি দেখেছি। বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের এতটা অপছন্দ করে এটা ইউনিফর্মের আবরণ ভেদ করে আপনারা হয়তো কখনোই বুঝতে পারেন নি। ফেসবুকে সেনা বন্ধুর স্ট্যাটাসে দেখলাম দেশ জুড়ে অনেক তরুন সৈনিকই রেজিগনেশন লেটার জমা দিচ্ছেন। তাদের অভিমান, "দেশের মানুষ আমাদেরকে চায় না; আমরা কেনো সামরিক বাহিনীতে থাকবো?"

ভাইরে,
কখনো কী ভেবেছেন, কেনো বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের প্রতি বিরূপ?

বাংলাদেশের মানুষ বারে বারে আপনাদের কাছ থেকে প্রতারিত হয়েছে। আমরা একাধিকবার সামরিক শাসন; ব্যর্থ ক্যু দেখেছি। আপনাদের গুলিতে আমাদের বন্ধুকে মরতে দেখেছি। আপনাদের বুটের তলে পাহাড়ি ভাই-বোনের অধিকার লুন্ঠিত হতে দেখছি। আচ্ছা, বাদ দেন না হয়! এগুলো জাতীয় সমস্যা। আমরা বাংলাদেশীরা আমাদের নিজেদের গায়ে আঁচ না লাগলে এত বড় ব্যাপারে মাথা ঘামাই না। সেই ব্যক্তি পর্যায়েও আমাদের অনেক কিছু দেখা হয়ে যায়। আমার হয়তো সংবাদপত্রে পড়া পাহাড়ি নির্যাতনের কথা মনে থাকবে না। কিন্তু ক্যান্টনমেন্টে লেন পরিবর্তন করার দোষে বৃদ্ধ রিক্সাওয়ালাকে আপনাদেরই কারো একজনের লাথি মারার কথা মনে থাকবে। কারণ এগুলো আমাদের চোখের সামনে ঘটেছে।

আপনারা শপথ নিয়েছেন, "জল, স্থল, অন্তরীক্ষে যেখানে যাইবার আদেশ হইবে সেইখানে যাইতে বাধ্য থাকিব।" শপথ নিয়েছেন, "জীবনের বিনিময়ে হইলেও বাংলার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করিব।" তাই যে কোনো সমস্যায় আমাদের আপনাদের কথা মনে হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে, বিদেশী অতিথির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, সাফ গেমসে সোনার দৌড়ে টিকে থাকতে, এমন কী যানযট নিরসনে! এর সব হয়তো আপনার করার কথা ছিলো না। এসব কিছু করার শপথ হয়তো আপনি নেননি। গরীব আমাদের বিন্দু বিন্দু করে উপার্জন করা টাকাগুলোর একটা বড় অংশ চলে যায় প্রতিরক্ষা খাতে। তাই আমরা আপনাদের কাছ থেকে এসব দাবি করি। আমাদের মনে হয় না এগুলো বাড়তি কোনো কাজ। দেশের জন্য এই কাজগুলো করার সামর্থ্য আমাদের সবার নেই। আপনাদের আছে। তাই এই কাজগুলো করে যখন আপনারা যখন আমাদের আঙুল তুলে দেখিয়ে দেন তখন আমাদের ভালো লাগে না। যখন আপনারা আমাদের "ব্লাডি সিভিলিয়ান" বলেন, আমাদের ভালো লাগে না। আমাদের মনে হয় আমাদের খুব প্রিয় কেউ আমাদের গালে চড় বসিয়ে দিলো। বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। আপনাদের মধ্যেও। আমাদের দেশ রক্ষার ভার যাঁদের হাতে, তাদের মাঝে দুর্নীতি আমাদের ভালো লাগে না।

কিন্তু ভাই,
আমাদের এই রাগ, এই ক্ষোভ, এই অভিমান আপনাদের উপর করার হক আমাদের আছে। কারণ আমরা আপনাদের ভালোবাসি। আপনারা আমাদের দেশের মানুষ। আমাদের ভাই। আমরা আপনাদের গালি দেই। কিন্তু ভিনদেশী কেউ দিলে আমাদের মাথায় রক্ত উঠে যায়। আমরা নিজেরা আপনাদের নির্যাতনের কথা বলি। কিন্তু ভিনদেশী কেউ জিজ্ঞেস করলে মাথা উঁচু করে লাইবেরিয়ার গল্প শুনিয়ে দেই। আমরা আপনাদের অবিশ্বাস করি। কিন্তু ভিনদেশী কাউকে বলতে একবিন্দু দ্বিধা হয় না যে আমাদের সেনা পৃথিবীর সেরা। আমরা আপনাদের খলনায়ক বলি। কিন্তু আমাদের সব চেয়ে জনপ্রিয় কল্পনায়ক "মাসুদ রানা"কে বানাই সেনা সদস্য। আমরা আপনাদের ভরসা করি না। কিন্তু দেশের যে কোনো সংকটে আমাদের আপনাদের কথা মনে পড়ে।

আমরা নিজেদের বাড়িতেই ঝগড়া করি, রাগ করি, চিল্লাই। পড়শীর বাড়িতে না। আমাদের ভালোবাসাকে ভুল বুঝবেন না। অবহেলা করবেন না।

বিডিআর বিদ্রোহের খবরে আমার প্রাথমিক অনুভূতি তো বললাম। পরের কথা বলি। যখন নিশ্চিত হই বিডিআর কার্যালয়ে সেনা খুন হয়েছেন, আমার বুক কেমন চিনচিনিয়ে ওঠে। পরে যেখন শুনি সেই সংখ্যা শতাধিক তখন আমার আর কিচ্ছু ভালো লাগে না! এক একটা লাশ উদ্ধার হয়। আমি মেহেদী মুছে না যাওয়া নববধূর কান্নার ছবি দেখি। বাবাকে হারিয়ে শিশুর চিৎকার দেখি। সহকর্মী হারিয়ে অন্য সেনাদের গোঙানি দেখি। আমার চোখ জ্বালা করে ওঠে। আমার নিজেকে খুব, খুব ছোট মানুষ হয়! সেনা ভাইদের পাশে দাঁড়াতে ইচ্ছে হয়।

আজ দেখুন, সারা দেশ জুড়ে মানুষ আপনাদের শোকে বিহ্বল হয়ে আছেন। প্রথম ধাক্কার সেই "ঠিকই আছে" মনোভাব আর নেই। আজ আমাদের সবার চোখেই জল। কেনো জানেন? কারণ স্বজনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা নারী-পুরুষ-শিশুর বেদনাক্লিষ্ট মুখ আমার মতোই সবার বুকে কাঁপ ধরিয়ে দিয়েছে। সবাই হঠাৎ করেই বুঝতে পেরেছে একজন সেনা আর কেউ নয়, রক্ত মাংসেরই মানুষ। তাদেরও মা আছে, বাবা আছে। ভাই-বোন-স্ত্রী আছে। তাদেরকেও কেউ "বাবা" বলে ডাকে। তারাও আমাদের মতোই ভাতের সাথে ডাল মাখিয়ে খান। ইলিশের মৌসুমে বাজার থেকে ইলিশ কিনে আনেন। বিকেলে স্ত্রীর সাথে টিভি দেখেন। রাতে সন্তানকে পড়া দেখিয়ে দেন। ছুটির দিনে মা'কে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যান। এমনটা তো আমরা সব সময় বুঝতে পারি না!

আমরা তিন দিন ধরে শোক পালন করবো। আমার মতো সারা দেশের মানুষই রাতে ঘুমাতে গিয়েও শুধু এপাশ-ওপাশ করবেন। কারণ আমাদের ভাই খুন হয়েছেন; আমাদের ভাইয়ের হাতেই। এ যে কতো বড় কষ্ট, কতো বড় বেদনা; এই কষ্ট আর বেদনা যেনো আর কোনো বাংলাদেশীর কোনো দিনও পেতে না হয়। বিডিআরের প্রতি আপনাদের ক্ষোভ আমরা বুঝি। খুনি বিডিআর জওয়ানদের বিচার হোক; শাস্তি হোক। এটা আমি চাই; সারা দেশের মানুষ চায়। কিন্তু রক্তপাত করে সেই শোধ তুলবেন নারে ভাই। একই কষ্ট আমাদের আরেকবার দেবেন না। বিচার ব্যবস্থায় ভরসা রাখুন।

বিডিআর বিদ্রোহ আসলেই বিদ্রোহ ছিলো কিনা তা নিয়ে এখন আমাদের সন্দেহ দানা বাঁধছে। অনেকেই অনেক রকম কন্সপিরেসি থিয়োরি নিয়ে আসছেন। কিন্তু তাদেরও তো ক্ষোভ ছিলো। অনেক জওয়ানও তো নিহত হয়েছেন। আচ্ছা থাক, এসব নিয়ে আমি কিচ্ছু বলবো না, শুধু বলবো এই যে এই বিভৎস হত্যাকান্ড আপনাদেরকে আমাদের কাছে নিয়ে এসেছে, এখান থেকে আর দূরে সরে যাবেন না। আমরা আপনাদের কাঁধে সমবেদনার হাত রাখতে চাই। আমরা আপনাদেরকে "ভাই" বলে ডাকার অধিকার ফেরত চাই। যে ভুলগুলো আগে হয়েছে, করে ফেলেছেন, সেগুলো আর করবেন না। আপনারা "দায়িত্ব" আর "সম্মান"-এর শিক্ষা পেয়েছেন। সেই শিক্ষা বিফলে যেতে দেবেন না। আমি জানি অল্পকিছু অফিসারের জন্য আপনাদের মাথাতে দুর্নীতির বোঝা চলে এসেছে। দায়িত্ব আর সম্মানের কথা চিন্তা করে তাদের একঘর করে ফেলুন। শুধু আপনারা কেনো, বদলাতে হবে আমাদেরকেও। এই মর্মান্তিক ঘটনা থেকে আমরা সবাই শিক্ষা নেবো। আমরা একাত্তরের চেতনায় নতুন করে দেশ গড়তে শিখবো।

ভাইরে,
আমাদের দেশের মানুষেরা খুব সরল। আমরা মনে রাখি না, ভুলে যাই। পরম শত্রুকেও আমরা ক্ষমা করে দেই। সেই ভালো মানুষীর সুযোগ নিয়ে রাজাকারেরা সংসদে আস্ফালন করতে পারে। কোথাকার কোন শর্মিলা বোস লিখে দিতে পারে একাত্তরে নারী ধর্ষণ হয়নি। পাকিস্তান রাষ্ট্রপতির বিশেষ দূত জিয়া ইস্পাহানি শুয়োরের বাচ্চা বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে বলার সাহস পায়, "যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি উত্থাপনের সময় এখন নয়।" আর আপনারা তো আমাদের দেশের সূর্য সন্তান। আমাদের বুকে আপনাদের জন্য যে ভালোবাসা যে গর্ব ছিলো তা তো কখনো মুছে যায় নি! যেমন ছিলো তেমনই আছে। শুধু বারে বারে আমাদের ভালোবাসা ঠেলে দিয়েছেন বলে এতো দূরে সরে গেছে যে হঠাৎ যেনো আমরাও ঠাওর পাই না। আপনারা একধাপ নেমে শুধু একবার আমাদের কাতারে আসুন। এরপরে দেখুন আমরা আপনাদের জন্য কী করি! আমাদের দেশটাতে অনুসরণ করার মতো নায়কের খুব অভাব রে ভাই। একবার আপনাদেরকে নায়ক ভাবার সুযোগ দিন। দেখবেন, বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের জন্য জান লাগিয়ে দেবে।

আমি, একজন বাংলাদেশী হিসেবে, বুকে হাত রেখে আজ আপনাদেরকে এই ওয়াদা করলাম!

© অমিত আহমেদ

প্রথম প্রকাশ: বাঁধ ভাঙার আওয়াজ ব্লগ, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯

সৈনিক ব্লগার চোখের আলোয়-এর জবাব: সামরিক বাহিনীর সৈনিকদেরকে অমিত আহমেদের খোলা চিঠির উত্তর, বাঁধ ভাঙার আওয়াজ ব্লগ, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯

Friday, February 20, 2009

আজ ঢাকায় বৃষ্টিদিন? নাকি রৌদ্রসময়?

Brishtydin Roudroshomoy Launching
গত বইমেলায় যখন আমার প্রথম বই প্রকাশিত হয় তখন আমার লাগাম ছাড়া কোনো উত্তেজনা ছিলো না। বই প্রকাশে ঝামেলা থাকে, সময় নিয়ে টানাটানি থাকে, প্রকাশকের সাথে মনোমালিন্য থাকে, এসব বাদে মোটামুটি নির্লিপ্তই ছিলাম। এমন কী মাঝে একবার সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেললাম বই বের করবো না।

নানান ঝক্কি বাদে সেই বই প্রকাশের দিন ঠিক হলো ১০ ফেব্রুয়ারি। ডঃ আলী আসগর স্যারের বড় ছেলে রঞ্জন আমার ছেলেবেলার বন্ধু। ঠিক হয় বন্ধু-পিতা আসগর স্যারকে দিয়েই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হবে। মোড়ক উন্মোচনের দিন মেলায় দেখা হয়ে যায় আবু বকর সিদ্দিকী স্যারের সঙ্গে, সাথে কামাল লোহানী। স্যার নটরডেমে দ্বিতীয়বর্ষে আমাদের বাংলা ক্লাস নিতেন। আমার বই বেরুচ্ছে জেনে তিনি খুব খুশি হলেন। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তাঁরাও উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন সামহোয়্যার ইন ও সচলায়তনের ব্লগারেরা, আমার কাছের বন্ধুরা, খালাতো-মামাতো ভাই-বোনকে নিয়ে আমার মা, আরো অনেক উৎসুক দর্শক।

আমার মাথা খারাপ হয়ে গেলো মোড়ক উন্মোচনের ঠিক পর থেকে। সচলায়তনে "বইমেলা ডায়রি" লিখছিলাম। সেদিনটা কোনো রকম মেলায় কাটিয়ে বাসায় এসে সচলায়তনে লিখলাম – "লেখালেখি করার মত মানসিক অবস্থায় আমি এখন নাই। হঠাৎ করেই আমি ধরতে পেরেছি কী ভয়ংকর একটা ব্যাপার ঘটে গেছে। আমার বইটা বের হয়ে গেছে!" এরপরে আর ডায়রি লিখতে পারিনি।

এসব কথা কেনো বলছি?

বলছি কারণ এই ঘটনাগুলো আমি মিস করছি, প্রচন্ড ভাবেই মিস করছি। বইমেলায় নতুন বই এর গন্ধ, হাজার মানুষের ভিড়, ধাক্কাধাক্কি, হটপেটিস, ধূলো, আড্ডা, চা, সব… আর সব ছাড়িয়ে কষ্ট পাচ্ছি নিজের বইটাকে হাতে তুলে নিতে না পারার কারণে। পুতুল ভাইয়ের লেখার কথা বারে বারেই মনে পড়ে যাচ্ছে।

আজ আমার বই বেরুচ্ছে।

কোনো বিচিত্র কারণে প্রকাশক নজমুল আলবাব ভাই আমাকে বাড়াবাড়ি রকমের ভালোবাসেন। সেই ভালোবাসার পুরোটাই তিনি ঢেলে দিয়েছেন আমার বই "বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময়"-এর কাজে। বই প্রকাশের বিলম্ব নিয়ে কারো উৎকন্ঠা; নিজ বই ফেলে কারো আমার বইয়ের খোঁজ নেয়া; মোড়ক উন্মোচন হবে না কেনো বলে কারো আমাকে ঝাড়ি দেয়া; ফেসবুক/মেসেঞ্জার/মেইলে এমন অসংখ্য ঘটনার মধ্যে আমি ভালোবাসা খুঁজে পাই। আমার এবারের বইটা আজ বেরুচ্ছে এমন অনেক ভালোবাসা বুকে নিয়ে!

নিজে থাকতে-দেখতে পারছি না। বই প্রকাশের মুহূর্তটা আমার কেটে যাবে একা একা। তবে সত্যি কথা; কষ্ট থাকলেও একবিন্দু ভয় বা শংকা নেই মনে। কারণ আমি জানি আপনারা আছেন। আমার এই মুহূর্তটাকে আপনারাই বুকে আগলে রক্ষা করে রাখবেন। একবারো মাটিতে পড়তে দেবেন না।

© অমিত আহমেদ


বি:দ্র: আজ আমার সাথে সাথে আরো দু’টি সচল বই বেরুচ্ছে।

প্রিয় বন্ধু আনোয়ার সাদাত শিমুলের "অথবা গল্পহীন সময়"। ওর প্রথম বই অথচ নিজে দেখতে পারছে না! ওর বই নিয়ে হাসান মোরশেদ ভাইয়ের পোস্ট

এবং নুরুজ্জামান মানিকের "স্বাধীনতা সংগ্রামের অপর নায়কেরা"।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০০৯

ছবি: ২০ ফেব্রুয়ারি ১০০৯ বিকেলে বাংলা একাডেমি বইমেলায় নজরুম মঞ্চে "বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময়" এর মোড়ক উন্মোচন। ছবি কৃতজ্ঞতা - M M Rahman @ Flicker

Sunday, February 08, 2009

বইমেলায় "বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময়"

IMG_1589
একদম হুট করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।

শস্যপর্ব প্রকাশক নজমুল আলবাব ভাইয়ের সাথে জিটকে বই, বইমেলা, ইত্যাদি নিয়ে কথা হচ্ছিলো। কথার ফাঁকে পূর্ব চিন্তা ছাড়াই দু’জনে ঠিক করে ফেললাম এবারের বইমেলায় আমার নতুন আর বাছাই করা কিছু গল্প নিয়ে আলবাব ভাইয়ের প্রকাশন শস্যপর্ব থেকে একটা বই হবে।

পুরানো গল্প-বাছাই আর নতুন গল্পগুলো

বই হবে ঠিক করে ফেলার পর শুরু হলো গল্প-বাছাই।

আগে সেভাবে খেয়াল করিনি কিন্তু গল্প বাছাই করতে গিয়ে দেখলাম আমার আসলে অনেক গল্প জমে গেছে। অধিকাংশই সংবাদপত্র, পত্রিকায়... কিছু ব্লগ, ই-পত্রিকায় প্রকাশিত। গল্প বাছাই করতে গিয়ে যা হলো - নিজের লেখা প্রায় সব গল্পই পড়া হয়ে গেলো। "প্রায়" বলছি এই কারণে যে সংবাদপত্র প্রকাশিত আমার কয়েকটা গল্প হারিয়ে গেছে। যখন প্রকাশিত হয়েছিলো তখন কোনো কারণে সংরক্ষণ করে রাখা হয়নি। এখন সেগুলো আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

আরেকটা জিনিস খেয়াল দেখলাম, এই ক’বছরে আমি বিভিন্ন ধরণের গল্প লিখেছি - রম্যগল্প বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ভৌতিক থেকে শুরু করে কিশোরগল্প পর্যন্ত। এ ধরণের গল্পগুলো বিশেষ বিভাগে পড়ে বলে বইয়ে দেবো না বলে ঠিক হলো। জমতে থাকুক। যদি কপালে থাকে পরে কোনো এক সময় (শুধু আমার ছোট ভাইয়ের জন্য হলেও) বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী কিংবা কিশোরগল্পের সংকলন করা যাবেখন! আমার পছন্দের কিছু অণুগল্পও আছে। আকার আর বিষয়বস্তুর জন্য সেগুলোও বাদ পড়ে গেলো (এমন কিছু অণুগল্প নিয়ে আমার বিনে পয়সার ই-বই "ফেলে আসা গল্প যতো")।

গল্প বাছাই করতেই চলে গেলো একমাস। এরপর বসলাম পরিমার্জনে। প্রকাশিত গল্পগুলো সবই পরিমার্জন করেছি - কিছু সামান্য, কিছু আগাগোড়া। ঢাউস আকারের দু’টো নতুন গল্পও লিখে ফেললাম। গল্পদু'টো এতো বড় যে চরিত্র সংখ্যা একটু বেশি হলে এই দু’টোকে বড়গল্প না বলে উপন্যাসিকাই বলতাম।

সব মিলিয়ে শেষ-মেষ গল্প সংখ্যা দাঁড়ালো নয়।

তেমন পরিমার্জন করা হয়নি এমন তিনটা গল্পের লিংক দেই -
» না বলা কথা, সচলায়তন লিংক, রচনাকাল: সেপ্টেম্বর ২০০৭
» পালিশ, সচলায়তন লিংক, রচনাকাল মার্চ ২০০৮
» প্রতিসরণ, সচলায়তন লিংক, রচনাকাল: মার্চ ২০০৬

নামকরণ

নামকরণ নিয়ে অনেক আলাপ হয়েছে বন্ধুদের সাথে। কাছের বন্ধু, দূরের বন্ধু, ব্লগের বন্ধু। অনেকেই বলেছেন কোনো গল্পের নামেই বইয়ের নাম রাখতে। কেউ নাম প্রস্তাব করেছেন। কিচ্ছু মনে ধরেনি। মনে হচ্ছিলো বইয়ের ছাঁদের সাথে যায় এমন একটা নাম দরকার।

এরপর হঠাৎ একদিন রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে আমি কোনো এক ঘোরের চলে যাই। বাসায় এসে, রাতে বিছানায় শুয়েও আমি সেই ঘোর থেকে বেরুতে পারি না। ছটফট করতে করতে উঠে আসি। সাদা কাগজে লিখি বইয়ের নাম - "বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময়।" আর সেই ঘোর-মাখা কথাগুলোই হয়ে যায় বইয়ের "প্রারম্ভিক"।

প্রচ্ছদ

"গন্দম" বের করার আগে প্রচ্ছদ নিয়ে খুব ঝামেলায় পড়েছিলাম। কোনো প্রচ্ছদ পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায় তা পছন্দ হয় না। শেষে দিন বাঁচালো হিমন। আলবাব ভাই কুরিয়ারে সিলেট থেকে হিমনের করা প্রচ্ছদ পাঠালেন। আমি হাতে পেয়ে চমকে উঠলাম। এক কথায় - দুর্দান্ত!

এবারও সেই হিমনেরই প্রচ্ছদ করার কথা ছিলো। দু'টো প্রচ্ছদ সে করেও ছিলো। কিন্তু একটা প্রচ্ছদও পছন্দ হলো না। জ্ঞানি মানুষ বলেন, "If you want something done right, do it yourself", তাই করলাম। একদিন সারারাত জেগে নিজেই বানিয়ে ফেললাম প্রচ্ছদ। বানিয়েই ইমেইল করলাম সুজন’দাকে। আর্টিস্ট মানুষ - উনার মতামতের একটা দাম আছে। উনি খুব পছন্দ করলেন। প্রকাশকও পছন্দ করলেন। আমার করা প্রচ্ছদই ফাইনাল হয়ে গেলো।

এখানে একজনকে ধন্যবাদ না জানালেই নয়। তিনি সুপ্রিয় নজরুল ইসলাম ভাই। আমার প্রচ্ছদ হচ্ছে না জেনে তিনি ব্যাপারটা স্বইচ্ছায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। খুব আপন না ভাবলে কেউ কখনো এমন করে না।

সবশেষে

বইটা বেরুচ্ছে ২০ ফেব্রুয়ারি, বইমেলায়। শস্যপর্ব থেকে। পরিবেশক শুদ্ধস্বর। তাই বইটা পাওয়া যাবে লিটলম্যাগ কর্নার আর শুদ্ধস্বর (স্টল-১৯৪) দুই জায়গাতেই।

"বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময়" নিয়ে আমার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই, যা আছে তা হলো মমতা, ভালোবাসা আর গর্ব। গল্পগুলো খুব যত্ন করে লেখা। খুব মন দিয়ে বাছাই করা। এই এক টুকরো বইয়ে মিশে আছে অনেকখানি আমি। একজন লেখকের কাছে এরচেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে?

© অমিত আহমেদ
ছবি কৃতজ্ঞতা: Raiyan Kamal @ Flicker

Wednesday, February 04, 2009

অন্তর্জাল/মিডিয়াতে "বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময়" বৃত্তান্ত

নিজের জন্য পোস্ট। সব উল্লেখ একসাথে রাখার উদ্দেশ্যে। ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে অনুরোধ করছি ;-)

» সর্বশেষ আপডেট: মার্চ ২০০৯
» দিন-তারিখ ক্রমানুসারে সাজানো - পুরান থেকে সাম্প্রতিক
» ব্যক্তিগত মন্তব্য লেখক/লেখিকার অনুমতি নিয়ে প্রকাশিত

অভিজিৎ রায়
বইমেলায় মুক্তমনা লেখকদের কিছু বই, মুক্তমনা, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯

"২০০৭ সালের আগস্ট মাস থেকে সচলায়তনে লেখালিখি শুরু করার পর থেকে বেশ কিছু উদীয়মান লেখকের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে। অমিত আহমেদ তাদের মধ্যে একজন। তার ফ্যান্টাসি, রহস্যগল্প আর সাইফাই গল্প আমি সবসময়ই গোগ্রাসে গিলি। শুনেছি তিনি শুধু সুলেখকই নন, সুপুরুষও বটে :)। ‘গন্দম' বইয়ের লেখক অমিত নাকি ছিলেন গত বইমেলার হার্ট থ্রব! তরুনীদের মাঝে অটোগ্রাফ বিলাতে বিলাতেই নাকি তার জান কাহিল। এই হার্টথ্রবের আরেকটি বই এই বইমেলায় আসছে - ‘বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময়’ - একটি ছোটগল্প সংকলন। সে শুধু নিজেই বই বের করছে না, সচলয়ায়তনে আমার পরিচিতজনেরা যারা বই বের করছেন এবারের বইমেলায় তাদের একটি তালিকাও রেখেছেন। সচল লেখকদের তালিকাটি দেখা যাবে এখান থেকে।"

মু. নূরুল হাসান
বইমেলায় বন্ধু-র বইঃ অমিত আহমেদ ও আনোয়ার সাদাত শিমুল, ক্যাডেট কলেজ ব্লগ, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৯

"অমিতের এবারে ২য় বই বের হচ্ছে। প্রথম বই ছিলো একটা উপন্যাস, নাম - গন্দম। অনেকদিন অপেক্ষার বাদে সেই বই পড়ার সুযোগ হয়েছিলো আমার, এবং পড়ে টড়ে আমি যারপরনাই মুগ্ধ! অমিত তার নামের মতই অমিত সম্ভাবনাময়। অমিতের গল্প পড়লে মনে হয় ও একজন সত্যিকারের লেখক, দারুণ মুন্সিয়ানার ছাপ তার সবকয়টা গল্পেই। বলা ভালো, আমি অমিতকে ডাকি সু-লেখক। একই সাথে সু মানে ভাল, আবার সু মানে সুদর্শনও।

অমিতের বইটাও গল্প সংকলন, নাম বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময়।

সাহিত্যের সময়গুলো আপনাতেই একেক প্রজন্মের নামে পরিচিত হয়ে যায়, অথবা একেক সময়ের লেখকেরা পরিচিত হন একেকটা দশকের পরিচয়ে। আমার ধারণা, আমাদের দশকের, অথবা আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে শক্তিশালী লেখকদের নাম কখনো লিপিবদ্ধ করা হলে অমিত আহমেদ আর আনোয়ার সাদাত শিমুলের নাম সেখানে সবচেয়ে ওপরের দিকেই থাকবে।"

ফকির ইলিয়াস
মেলায় অভিবাসীদের বই, দৈনিক ডেসটিনি, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০০৯
"এবারের বইমেলায়ও প্রবাসী তরুণ লেখকদের গ্রন্থের আধিক্য লক্ষণীয়। এটা খুবই আশার কথা, এই প্রজন্মের তরুণ লেখক- লেখিকারা প্রবাসে বসেও বাংলা সাহিত্যচর্চা করছেন প্রজ্ঞা আর মননের সঙ্গে।

কানাডা অভিবাসী অমিত আহমেদের প্রথম উপন্যাস "গন্দম" প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৮-এর বইমেলায়। বইটি বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। এবার অমিত আহমেদের গল্পগ্রন্থ "বৃষ্টি দিন রৌদ্র সময়" প্রকাশিত হচ্ছে শস্যপর্ব প্রকাশন থেকে। এর পরিবেশনায় আছে শুদ্ধস্বর।"

জামাল ভাস্কর
অমিত আহমেদের বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময় গল্প গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনা (১), (২),
বাঁধ ভাঙার আওয়াজ ব্লগ, ১২, ১৩ মার্চ ২০০৯
"অমিত আহমেদের দ্বিতীয় গ্রন্থ বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময় পাঠের প্রারম্ভেই আমি টের পাই একজন শক্তিশালী গল্পকার প্রবাসে গোপনে নিভৃতে তৈরী হইতেছেন... যার গল্প বলার ধরন একান্তই তার নিজস্ব, তার গল্প বলার বিষয়, তার গল্পে নিহিত গল্প একান্তই আমাগো... বাঙালি জাতির... প্রথম গল্প ছদ্মবেশ'এই আমি নিমজ্জিত হইয়া যাই... গল্পটারে টের পাই... কেবল দর্শন চর্চার বিকল্প মনে হয় না... গল্পের কাশেম চরিত্র কিংবা অক্ষয় অনল অথবা মাহফুজ তরফদার কেউই আমার কাছে অবোধ্য হয় না... চরিত্রগুলি লেখকের লেখনীতে চরিত্র হিসাবে সোজা হইয়া দাঁড়ায় মাঞ্জা শক্ত কইরা... তাগো গাল্পিক উপস্থিতি কেবল কোন বক্তব্য প্রদানের তরে না বরং তাগো জীবন কাহিনীরে লেখক বিশ্লেষণ করেন য্যান গল্পের মতোন... হয়তো এই গল্প লেখকের কল্পনা বিলাস, কিন্তু গল্পের পরতে পরতে আমি চরিত্রগুলিরে ছুঁইয়া দেখতে পারি, অনেক নিরাসক্ত বর্ণনা সত্ত্বেও... বিল্লুর মা তার ময়নাতে রূপান্তরিত হওয়ার আগেই আমার ভালোবাসায় সিক্ত হয়..."

"অমিত আহমেদের গল্পের বইয়ের দ্বিতীয় গল্প পাঠের পর আমার একটা অবজার্ভেশন তৈরী হয় লেখক সম্বন্ধে... তিনি গল্পের রহস্যময়তা ভালোবাসেন। বা এইটারেই যদি একটু অন্যরম কইরা কই সেইটা হইলো তিনি রহস্যের গল্পরে ভালোবাসেন... প্রত্নতথ্য নামের এই গল্প পড়নের অভিজ্ঞতায় আমি নিজের রুচীবোধের লগে মিলাই... এই গল্পের গল্পটারে খুঁজি... গল্পের কয়েকজন, রেজা-মেজবাহ-মহীতোষ-ড: হিরকক কিম্বা শেফালির বাপ সকলের চারিত্রিক উপস্থিতির মধ্য দিয়া আসলেই কি রহস্যটারে গল্প করতে চাইছেন অমিত?" ... "এই গল্পরে মনে হয় সময়ের নিশ্চয়তা সন্ধানী রেজা-মেসবাহ-মহীতোষগো গল্প... যেই গল্পে একজন দেবতাও থাকেন, শেফালির বাপ। রেজা-মেসবাহরা এই সময়ের তরুণগো একটা অংশ যারা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়া আগায় কেবল একটা নিশ্চিত জীবনের হাতছানিতে। যেই হাতছানি এড়াইয়া যাওয়া কঠিন... নিশ্চয়তার জীবন কারো হাত ধইরা আসে না... এই জীবন আসে আর কারো নিঃস্ব করনের মাধ্যমেই।" ... "ছদ্মবেশ নামক গল্পের মতোন অনেক চিত্তাকর্ষক না হইলেও অমিতের লেখনীতে প্রত্নতথ্য আমার নাপছন্দ গল্প অন্তত হয় না"

রাদিয়া নূর
বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময়, এলোমেলো ভাবনা, মে ২০০৯

"সবচেয়ে ভাল লেগেছে প্রত্নতথ্য গল্পটা। পরাবাস্তব রহস্য গল্প । খুবই অবাস্তব ঘটানার কী ভীষণ বাস্তব বর্ণনা। আর ঝড়ের রাতে পড়ায় , কেমন যেন গা ছমছমে অনুভূতি হল। যদিও শেষ মনে হল, পরাবাস্তব রহস্য চেয়ে এটা অনেক বেশী জীবনের গল্প।

ছদ্মবেশ গল্পটা নিয়ে আমার এন্ট্যিসিপেশান বেশী ছিল। অমিত আগেই বলে রেখেছিল প্রেমের গল্প লিখছে। তাই যখন নায়ক কাশেম সাহেব বলেন তিনি অন্তঃসত্বা প্রেয়সীকে ফেলে রেখে পালিয়ে গিয়েছিলেন। আমার ভীষণ রাগ হচ্ছিল। কিন্তু পাতা উল্টোতেই দেখি কাহিনী আরো ৮ বছর এগিয়ে গিয়েছে। শেষটাও তাই প্রত্যাশিত ছিল।

বাকী গল্পগুলো নিয়ে আগেই অনেক কিছু বলা হয়ে গেছে। তাই আর কিছু লিখলাম না।"

টেলিভিশন
» চ্যানেল আই, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, বইমেলা থেকে সরাসরি নতুন বই এর খবর।

বইয়ের তথ্য-প্রকাশ
» একুশে বইমেলায় ব্লগারদের বই, ওয়েবমাস্টার, আমারব্লগ, ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৯: বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময়: অমিত আহমেদ; প্রচ্ছদ: অমিত আহমেদ; প্রকাশক: শস্যপর্ব; পরিবেশক: শুদ্ধস্বর