Monday, March 30, 2009

মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও "মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস"

মুহম্মদ জাফর ইকবালকে নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলবেন। কেউ তাঁর লেখার কথা বলবেন। কেউ বলবেন পেশার কথা। কেউ পারিবারিক, কেউ প্রাতিষ্ঠানিক, কেউ আবার তাঁর নেয়া উদ্যোগগুলোর কথা বলবেন। কেউ তাঁকে স্বর্গ উচ্চতায় উঠিয়ে রাখবেন। কেউ তাঁকে নিয়ে কথা বলার মতো মানুষ বলেই মনে করবেন না। তাঁকে নিয়ে সমালোচনা প্রশংসা সব চলবে। কারণ সমকালীন বাংলাদেশে তিনি সবচেয়ে চেনা মানুষদের একজন। বাংলাদেশের মানুষ তাঁর নাম জানে। চেহারা চেনে। কোনো মানুষ এত উপরে উঠে গেলে বিতর্ক এড়াতে পারে না; তাঁকে প্রতি পদে মানুষের ভালোবাসা আর সমালোচনা নিয়ে চলতে হয়।

অস্বীকার করার উপায় নেই; মুহম্মদ জাফর ইকবাল আমার জীবনের সাথে জড়িয়ে আছেন। শৈশবে "দিপু নাম্বার টু", "হাত কাটা রবিন", "আমার বন্ধু রাশেদ" পড়ে আপ্লুত হয়েছি। এই বইগুলো আমার ছেলেবেলা রঙিন করেছে। কৈশোরে তাঁর সায়েন্স ফিকশন গল্পগুলো, বিশেষ করে "কপোট্রনিক সুখ দুঃখ" বই পড়ে বিস্ময়ে বাকহারা হয়েছি। হতাশ হয়েছি তাঁর উপন্যাসগুলোর দুর্বল বুনোনে। সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে তাঁর কলাম পড়তে ভালো লাগে; ভালো লাগে কলাম জুড়ে তাঁর মুক্তচিন্তা বিচ্ছুরণ। পাঠকদের প্রতি তাঁর সম্মানবোধ। আবার হতাশ হই যখন দেখি এতো জ্ঞানী একজন মানুষের গবেষণায় যেমন সময় দেবার কথা ছিলো তেমন তিনি দিচ্ছেন না। মাথা ঘামাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে। তাঁর এসব ব্যক্তিগত ব্যাপারে আমি খুশি কিংবা হতাশ হই, কারণ যেভাবেই হোক তিনি আমাদের কাছের মানুষ হয়ে গেছেন।

একজন মানুষ যখন এভাবে অন্যের জীবনে ঢুকে পড়েন তখন তাঁর মধ্যে যে ক্ষমতাটা জন্মায় সেটা ব্যবহার করে অনেক কিছুই করে ফেলা যায়। একটা ছোট্ট লেখা কথা কিংবা সাক্ষাৎকারও আর ছোট থাকেনা। তাই জনপ্রিয় মানুষদের কাছে আমাদের অনেক চাওয়া পাওয়া জমে থাকে। আমাকে যদি এখন জিজ্ঞেস করা হয় আমি বলবো, মুহম্মদ জাফর ইকবালের কাছে আমার সেই চাওয়া পূর্ণ হয়েছে!

বইটা আমি পড়েছি। ছোট্ট বই। খুব সহজ ভাষায় লেখা। মোটেই বিস্তারিত নয়। নতুন প্রজন্মের জন্য এমনই দরকার। তথ্য যা আছে তাও মোটামুটি আগে থেকে জানা। বেশি তথ্য দিয়ে বই ভারী করা হয়নি, একদম যা জানা খুব দরকার, তাই। তবুও বইটা পড়তে গিয়ে আমি বারে বারে শিউরে উঠেছি। আমার গায়ের রোম দাঁড়িয়ে গেছে। আমার মনে হয়েছে এই বই নতুন প্রজন্মের পড়া উচিত। অবশ্যই পড়া উচিত!

জানলাম এই বইয়ের পেছনের মানুষগুলোর ইচ্ছে বইটা যতো বেশি মানুষের হাতে পারা যায় পৌঁছে দেয়া। মুনাফার আশা কারোরই ছিলো না। বইমেলায় তাই দাম খুব কম রাখা হয়েছিলো। বইমেলার পরেও বইটা উঠিয়ে না রেখে অন্তর্জালে তুলে দেয়া হয়েছে। আমি অনুরোধ করবো বইটা দয়া করে যেখানে যেভাবে পারেন ছড়িয়ে দিন। ফেসবুকে, ব্লগে, আপনার অন্তর্জাল পাতায়, ইমেইলে, প্রিন্ট নিয়ে, যেভাবে সম্ভব হয় সেভাবেই। তাঁর কাজ তিনি করেছেন, এবার বাকিটা আমাদের উপরে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অনেক বড় শক্তি।
নতুন প্রজন্মকে সেই শক্তির স্বাদ নিতে দিন।

© অমিত আহমেদ

সরাসরি ডাউনলোড লিংক
বড় আকারে
ছোট আকারে

বই এর ওয়েবসাইট

প্রথম প্রকাশ: বাঁধ ভাঙার আওয়াজ ব্লগ, ৩০ মার্চ ২০০৯

Wednesday, March 11, 2009

জলরঙ্গ

ব্যান্ড: মাইলস (হামিন, শাফিন, মানাম, জুয়েল, তূর্য)
সুর: ইকবাল আসিফ জুয়েল
শিল্পী: ইকবাল আসিফ জুয়েল
কথা: আসিফ আসগর রঞ্জন (আর্বোভাইরাস)

আলো-আঁধারের পথে ধূলো ঢাকা শূন্যতায়
শুনি আমার নিরব দীর্ঘশ্বাস
এই শহরের নিয়ন আলোয় ঢেকে রাখি কষ্টগুলো
এ আমার নিজের মাঝে নির্বাসন

তোমায় আঁকি জলরঙে কল্পনায়
সে ছবি মুছে যায় চোখের জলে
ভাঙা আয়নায় আমার প্রতিচ্ছবি
আজ অন্য কেউ দাঁড়িয়ে ধূসরতায়

এতো সুরের ভিড়ে ছুঁয়ে যায় শুধু স্তব্ধতা
এ আমার নিজের কাছে পরাজয়

দেখি নিজেকে এক পৃথিবীতে
কোনোদিন ছিলো যা আমার পৃথিবী
যখনি নিজেকে ছুঁতে চাই
কাঁচের দেয়ালে থমকে যাই


Get this widget | Track details | eSnips Social DNA

প্রবাসী বাংলাদেশীর (মন খারাপ করা) দিনলিপি মার্কা ব্লগ

মাঝে মাঝে ভাবি মানুষের ক’টা চেহারা থাকে? কখন কোন সময়ে কোন চেহারাটা সামনে আসে? একজন মানুষকে অন্যরা কতো ভাবে দেখে, দেখতে পারে? কিভাবে একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব যাচাই হয়? নানান সময়ে নানান রকম বিশেষণ শুনেছি। রগচটা ঠোঁটকাটা অমার্জিত এগুলো যতবার শুনেছি; ঠিক ততোবার শুনেছি শান্ত সৌম্য ভদ্র। মাঝে মাঝে শুনি আমি উচ্ছল মিশুক একরোখা, আবার শুনি লাজুক আত্মমুখী বাধ্য। কেউ বলে আমাকে নিশ্চিন্ত মনে সব বলা যায় কেউ বলে যায় না। এতো ভালোবাসা এতো ঘৃণা কোনোটাই ভাল্লাগে না। সময়ের সাথে সাথে এই পরস্পর বিরোধ বাড়ছে। ইদানিং নিজেকে চিনতে পারি না। মনে হয় সবসময় চাপে আছি, পরীক্ষার মধ্যে আছি, সারাক্ষণ আমাকে যাচাই করা হচ্ছে, বাছাই করা হচ্ছে। খুব ছোট্ট কারণে, ভুল হিসেবে বন্ধুত্বের দেয়াল ধ্বসে পড়ছে। এতো হিসেব ভাল্লাগে না। দুঃশ্চিন্তা বাড়ছে। কাছের মানুষকে নিয়ে; দূরের মানুষকে নিয়ে; অচেনা মানুষকে নিয়ে; দেশ নিয়ে, পৃথিবী নিয়ে। আর ভাল্লাগে এসব।

মনে হয় আগের সেই সময়ে চলে যাই। যেই সময়ে এক কাঠি কুলফি হাতে ভাঙা দেয়ালে বসে কাটিয়ে দিতাম সারাটা দিন। দুই ভাই মিলে তাড়া করে ফিরতাম পোষা কুকুর লায়নকে। দুপুরে মা ভাত মাখিয়ে নিজের পাত থেকেই দুই ভাইকে মুখে তুলে খাইয়ে দিতেন। রাতে বিছানায় দুই পাশে দু’জনে নিয়ে ছেলেবেলার গল্প বলতেন বাবা। খালাদের সাথে সাপ-লুডো-তাস, চাচার সাথে ম্যাকগাইভার, মামার সাথে রাশান গল্প। ছোট্ট সব আশা-দুরাশা, আনন্দ-বেদনা মিলিয়ে জীবনের সেই একমাত্রিকতা খুব মিস করি, খুব!

নারে ভাই! নিজ দর্শনকে ভেঙে-চুরে...
মন হারামি আজ ভালো নাই।