| ম্যাগনাম ওপাস ও কয়েকটি গল্প মাহবুব আজাদ প্রকাশক: নজমুল আলবাব, শস্যপর্ব পরিবেশক: পাঠসূত্র প্রকাশনী প্রচ্ছদ আলোকচিত্র: মেহদী হাসান খান প্রচ্ছদসজ্জা: নজমুল আলবাব গল্পগ্রন্থ, ৯৬ পৃষ্ঠা মূল্য ১২০ টাকা |
সহব্লগারের বই নিয়ে লিখতে গেলে কিছু ব্যক্তিগত কথা কিছু উঠে আসবেই। এটা এড়ানো কঠিন, এড়ানোর দরকার আছে বলেও মনে করি না। হিমু ভাইয়ের বই নিয়ে কথা বলতে গেলে ব্লগার হিমু ভাই, যাঁকে কখনো দেখিনি, যাঁর সাথে দৈনিক অন্তর্জালে, কিংবা সপ্তাহান্তে ফোনে কথা হয় না, তবু তাঁকে নিয়ে আমার ব্যক্তিগত চিন্তা চলে আসবে।
ব্লগপরিমন্ডলে অনেকের সাথেই চেনাজানা হয়। তবে সামান্য চেনা থেকে ভাই, বোন, কিংবা বন্ধুর কাতারে উঠে আসাটা কঠিন। কারণ ব্লগ জীবনটা এমনই যে একজন ব্লগার শুধু নিপুণ লেখনী দিয়ে কারো মনে জায়গা করে নিতে পারেন না। একজন ব্লগারের পরিচিতি গড়ে ওঠে লেখক-পাঠকের মিথষ্ক্রিয়ায়। ব্লগারের অবস্থান, দেশপ্রেম এ সবই তাই মাপকাঠিতে চলে আসে।
ব্লগার হিমু ভাইকে আমি খাওয়া-ঘুম ফেলে অন্তর্জালে রাজাকার, নিও-রাজাকার তাড়াতে দেখেছি। ক্লান্তিহীন পোস্টে দেখেছি দেশ নিয়ে ভাবনা। যখনই কোনো সংবাদ পড়েছেন, কোনো অনিয়ম-অনাচারে কষ্ট পেয়েছেন, দেশ পরিচালনা-ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি দেখেছেন - সচলায়তনে একটা পোস্ট দিয়েছেন। যে ভাবনা হয়তো ক্ষণিকের ছিলো, ক্ষণিকেই হয়তো থেমে যেতো, পোস্টের আলোচনা তর্ক-বিতর্কে তা সংক্রামিত হয়েছে অন্যতেও। তাঁর এই উদ্যম অতিক্রম করে যেতে পারে অন্য সব দোষ-ভুল-ত্রুটি।
লেখক মাহবুব আজাদকে নিয়ে এসব কথা না বললেও চলতো। তবু বললাম, কারণ ওই যে, ব্যক্তিগত কথা চলে আসবেই। মাহবুব আজাদ তো শুধু আর লেখক মাহবুব আজাদ থাকেননি, তিনি হয়ে গিয়েছেন ভাই, হিমু ভাই!
তাঁর উইটের ভক্ত আমি। একটা লেখা রসে চুবিয়ে, হাসিয়ে, কিভাবে ঠিক জায়গাটিতে হানা দিতে হয় তা তিনি জানেন। তবে শুধু হাস্যরসেই তিনি আটকে থাকেন না। একটা কথা একশো ভাবে বলা যেতে পারে। এক হাজার ভাবে দেখা যেতে পারে। একজন লেখক লেখার আগে এগুলোর ঠিক কতোটা যাচাই-বাছাই করতে পারেন তার উপরে লেখার ক্ষমতা অনেকাংশেই নির্ভর করে। মাহবুব আজাদের লেখার বেশ আগের পাঠক আমি। লেখা পড়ে এ বিষয়ে তাঁর দক্ষতা নিয়ে অন্তত কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়।
বিষয়টি পরিস্কার হয় তাঁর ভিন্নধর্মী কয়েকটি লেখা পরপর সাজিয়ে পড়লে। গোয়েন্দা ঝাকানাকা গল্পগুলো যেমন আমাদের আমোদ দেয়, ফুটোস্কোপিক গল্পগুলো যেমন হাসায়, পিচ্চিতোষ গল্পগুলো যেমন মায়ায় আটকে রাখে, ঠিক তেমনি বিলুপ্তির মতো গল্পগুলো আমাদের ঠিক ঠিক নাড়িয়ে দিয়ে যায়। তিনি লিখেন সায়েন্স ফিকশন, লিখেন রহস্যগল্প, কবিতা। লিখেন এমন সব গল্প, যেগুলো একটা লিখতে পারলে আমার ভালো লাগতো।
তাই, মাহবুব আজাদের প্রথম বই "ম্যাগনাম ওপাস ও কয়েকটি গল্প" এর জন্য অপেক্ষা শুধু তিনি হিমু ভাই বলেই নয়। কারণ জানি বইয়ে তাঁর সাতটি ছোটগল্পই উজ্জ্বল হয়ে থাকবে সাহিত্যগুনে স্বতন্ত্রে, রঙধনুর সাতটি রঙের মতোই।
© অমিত আহমেদ




9 টি মন্তব্য:
হিমুর মত লেখক এই সময়ে আর একজনও নাই।
শিল্প সাহিত্যের জগতে পিঠ চাপড়ানোর ব্যাপারটা ক্রমাগত চলতেই থাকে।দেখে আমোদিত হই। :))
বনলতা আপনার মন্তব্যের মধ্যেও আমোদের বিষয়বস্তু কম নেই। আপনি বুঝি যাঁদের লেখা পছন্দ নয় তাদের বইয়ের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন?
যেখানে প্রাপ্য সেখানে প্রশংসা না দেয়াটাই কিন্তু সমস্যার। শুধু শিল্প সাহিত্য নয়, আমি তো চাইবো সবক্ষেত্রেই মানুষ যেখানে যার সমাদর প্রাপ্য তাকে সমাদর করুক।
আসল সমস্যাটা আমি বলে দিতে পারি - আমি হিমু ভাইকে চিনি। এই একই লেখা যদি আমি জনাব পি. জি. উডহাউসকে নিয়ে লিখতাম তাহলে পিঠচাপড়ানো মনে হতো না। কারণ তাকে ব্যক্তিগত ভাবে আমার কিংবা আপনার কারোরই জানার সুযোগ নেই। কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন না, "যাকে হরদম দেখতে পাওয়া যায়, এমন একটি ব্যক্তি যে সারা দুনিয়ায় মশহুর একজন লোক হবেন, এ আমরা সইতে পারি নে।"
হিমু ভাই এই প্রজন্মের সবচেয়ে প্রতিভাবান লেখক। যে কোন বিচারেই।
বিঃদ্রঃ পরিচিত হলেই আমি পিঠ চাপড়াই না, আমার এই অভ্যাস নেই। বরং পরিচিত লেখকদের আমি কড়া সমালোচনা করি, এর নমুনাও আমার ব্লগ খুঁজলেই পাওয়া যাবে। তবু জানবেন, উপরোক্ত প্রশংসাবাক্যটি সেই সমালোচক মনের পুরোটা বজায় রেখেই বলছি। :)
বাংলা ব্লগে অসম্ভব শক্তিশালী লেখকদের কয়েকজন হচ্ছে হিমু, রাসেল( ........),কনফুসিয়াস, শিমুল, রানা মেহের। রানা ছাড়া বাকিদের লেখার আসল শক্তি সম্পর্কে আমার ধারনা এই ব্লগ জগতে এসে।
আমি সেই ২০০৭ সালেই নিজের মনে আফসোস করেছি, কেন এই শক্তিশালী লেখকরা বই লিখতে উদ্যোগী হচ্ছেন না, পত্রিকায় লিখছেন না।
এটা আনন্দের ব্যাপার যে শিমুলের বই গতবছর বেরিয়েছে, হিমু আর কনফুসিয়াসের বই এবার বেরুবে। বইগুলোর জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছি । রাসেল আর রানা মেহেরের বইয়ের জন্যও আমার অপেক্ষা শেষ হবে না।
আমাদের দুর্ভাগ্য, কতো অগাবগা শুধু চেষ্টার জোরে এই দেশে কতো বড় লেখক হয়ে গেল, কিন্তু আমাদের জেনারেশনের আসল শক্তিটা যাদের মাধ্যমে বুঝা যেত, তারা অধিকাংশই রয়ে গেল খামখেয়ালিতে।
হিমু ভাই চাইলেই বিভিন্ন মাধ্যমে লিখতে পারতেন বলেই আমার ধারণা ,কারণ উনার লেখার মান অনেক উঁচু । আমাদের প্রিণ্ট মিডিয়ায় এত কিছু (বিবিধ প্রকার বলতে ) লিখেছেন বলে আমার জানা নাই ।
অন্তর্জাল পেরিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌছে যাবে হিমু ভাই এর লেখা ।
এই কামনা ।
অমিত আহমেদ, ভালো বলেছিস। কিন্তু কারো লেখা অপছন্দ করি বলি বইয়ের অপেক্ষায় থাকি তোর কথাটা ঠিক না।নতুন প্রজন্মের কে কেমন লেখে সেটা জানার আগ্রহ থেকে কিছুটা অপেক্ষায় তো থাকি বটে।
আর কারো 'সব লেখাই' যে একনাগাড়ে অপছন্দ করতেই হবে এমন একগুঁয়ে পাঠক আমি নই ;-)
মাহবুব আজাদ বা হিমুর লেখনী খুব ধারালো এবং চমত্কার।সবার মতে, উনি এ প্রজন্মের শক্তিমান লেখকদের অন্যতম। কিন্তু তাই বলে তার সব লেখা ভালো লাগাতেই হবে এমন দলে আমি নই , এবং সেগুলোতে পিঠ চাপড়ানোর বদলে মন্দলাগা প্রকাশ করতে গিয়ে মনে হয়েছে অন্ধভক্তকূলের এবং লেখকের সমালোচনা গ্রহনে ত্রুটি আছে।লেখক নই বলে গঠনমুলক সমালোচনা করতে অপারগ।তবে পাঠক হিসেবে ভালোলাগা বা মন্দলাগা প্রকাশের স্পেস থাকা উচিত।
একজন মাহবুব আজাদ কিংবা অমিত আহমেদ পি জি উডহাউজ হয়ে গেলে সইতে পারবো না কথাটা সত্যি নয়।বরং নিজের বেশ পরিচিত বা কিঞ্চিত্ চেনাজানার কেউ পিজি উডহাউজ এই গর্বেই হয়তো জনসাধারণ্যে মাটিতে পা পড়বে না। :-P
মাহবুব আজাদের প্রথম গ্রন্থ প্রকাশে শুভকামনা।
কোনো লেখকের সব লেখাই ভালো লাগতে হবে এমন কথা তো কেউ বলেনি। সেটা সম্ভবও নয়। কারণ, প্রথমত, সব পাঠকের রুচির সাথে মানিয়ে লেখা কোনো লেখকের পক্ষেই সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, কোনো লেখকই ক্রমাগত সরলরৈখিক মানে লিখে যেতে পারেন না।
হিমু ভাইয়ের কোনো লেখায় "মন্দলাগা" প্রকাশ করতে গিয়ে যদি মনে হয়ে থাকে আপনার মতামত হিমু ভাই কিংবা অন্যরা সহজভাবে নিচ্ছেন না তবে বিষয়টি সেখানে উত্থাপন করাটাই যুক্তিসঙ্গত হতো। প্রসঙ্গত, এখানেও কিন্তু আপনি মন্দলাগা প্রকাশ করেননি বরং আমাদের পিঠ চাপড়ানোর অপবাদ দিয়েছেন যা আপনার আমোদের উৎস বলেও আমরা জানতে পাই। তাও এমন একটি সিরিজে যার উদ্দেশ্যই হলো লেখকদের লেখা কেনো ভালো লাগে এবং কেনো তাদের বইয়ের অপেক্ষায় থাকি তা তুলে ধরা।
@ আরিফ ভাই, এই বইমেলায় কিন্তু রানারও প্রথম বই "পোকাদের দল পাতকুয়ায় ফেরে" প্রকাশিত হচ্ছে শস্যপর্ব প্রকাশন থেকে।
আপডেট: এবার নয়, সব ঠিক থাকলে রানার বই প্রকাশিত হবে আগামী বইমেলায়। শস্যপর্ব প্রকাশন থেকেই। এ বইটিরও অপেক্ষায় আছি।
Post a Comment