| কাঠের সেনাপতি তারেক নূরুল হাসান প্রকাশক: নজমুল আলবাব, শস্যপর্ব পরিবেশক: পাঠসূত্র প্রকাশনী প্রচ্ছদশিল্পী: নজরুল ইসলাম গল্পগ্রন্থ, ৬8 পৃষ্ঠা মূল্য ৮০ টাকা |
লেখক তারেক নূরুল হাসান ওরফে ব্লগার কনফুসিয়াসের লেখা নিয়ে নতুন কিছু বলা আমার জন্য কষ্টকর। কারণ ওর লেখা নিয়ে এর আগে অসংখ্য মন্তব্যে, পোস্টে বলেছি। তাই পোস্টটি হয়তো আগের বলা কথাগুলোরই সমষ্টি হবে।
তারেকের লেখার সাথে আমার প্রথম পরিচয় এক বড়ভাই এর মাধ্যমে। তখন ব্লগে নতুন বলে তাঁর কাছে জানতে চাইছিলাম - ব্লগে কার কার লেখা ভালো লাগে বলুন তো? তিনি বেশ করেকজন ব্লগারের সাথে সাথে কনফুসিয়াসের নামটিও বললেন।
কনফুসিয়াসের ঠিক কোন লেখাটি প্রথম পড়েছিলাম এখন আর তা মনে নেই। তবে সেটা খাঁটি ব্লগ যাকে বলে, তাই ছিলো। আকারে বড় নয় বলে চট করে পড়ে ফেলা যায়, আর সে ছোট্ট পরিসরেই লেখকের যা বলার বলা হয়ে যায়। এ ধরণের লেখায় ব্লগ সাইটগুলো ভর্তি। তবু কেনো কনফুসিয়াসের লেখাগুলি আমার এবং অন্যদের আলাদা ভাবে ভালো লাগতো?
প্রথম কারণটা অবশ্যই ওর ভাষাশৈলী। তারেকের শব্দনির্বাচন এবং বাক্যগঠনে অস্থিরতার ছাপ কম থাকে বলে একদম ছোট একটি লেখা পড়ার পরেও মনে হয় না লেখাটি ছোট ছিলো। তাই তারেকের অণুগল্পগুলো পড়ার পরেও পূর্ণগল্প পড়ার মতোই অনুভূতি হয়। আরেকটি জিনিস যা ভালো লাগে তা হলো ওর পরিমিতিবোধ। লেখালেখি যারা করেন তাঁদের অনেকেরই অভ্যাস থাকে এক গল্প বলতে গিয়ে অন্য গল্প শুরু করে দেয়া, যেটা হয়তো সবসময় প্রাসঙ্গিক হয় না। কোন অংশটুকু পাঠকের কল্পনার উপরেই ছেড়ে দেয়া ভালো সেটা তারেক খুব ভালো বুঝতে পারে। তারেকের পরিমিতিবোধ দেখা যায় ওর উপমা ব্যবহারেও। কিছু কিছু উপমা ব্যবহার করে তারেক যেগুলো দুর্দান্ত বললেও কম বলা হয়। এমন অনেকবার হয়েছে আমি তারেকের কোনো একটি বাক্য একাধিকবার পড়েছি কেবল একটি উপমার লোভ সামলাতে না পেরে।
গল্পের কথা যদি বলি - গতানুগতিক একঘেয়ে গল্প তারেক লেখেনি। ওর গল্পে যেমন পারিবারিক টানাপোড়ন, রহস্য-রোমাঞ্চ এসেছে, তেমনি এসেছে প্রবাস জীবন, একাকিত্ব, আর ভালোবাসা। তারেকের লেখাও কিন্তু একরকম থাকেনি। ব্যক্তিগত জীবনে একাগ্র পাঠক তারেকের ভাবনায় চলে এসেছে অন্যদের ভাবনা-চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গী, এবং গল্প বলার ধরণ। নিজেকে অন্যদের গল্পে বসিয়ে তারেক পৃথিবী দেখেছে। সেই মনে ভর করে ক্রমাগত ভেঙেচুরে সাজিয়েছে তার লেখা। পাঠক হিসেবে সেই বিবর্তনে মিশে যাওয়ার মধ্যেও উত্তেজনা আছে।
সহব্লগার, যাঁরা কাছের মানুষ হয়ে গিয়েছেন, তাদের মধ্যের তারেকের সাথেই সম্ভবত আমার সবচেয়ে পরে ব্যক্তিগত যোগাযোগ হয়েছে। হাসিখুশি মানুষ তারেকের সাথে মন খুলে কথা বলা যায় যে কোনো বিষয়েই। অল্পতেই রাগ নেই। সাহায্যের হাত সব সময় খোলা। গত বইমেলার আগে আমার বইয়ের কাজ চলছিলো যখন, তখন পদে পদে বিরক্ত করেছি তারেক ও তিথিকে। লেখা, প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে লেখকের ছবি সহ এমন কিছু নেই যা নিয়ে ওদের সাথে আলাপ করিনি, সাহায্য পাইনি। খুব কাছের মানুষ ভাবলেই এমন ভাবে কারো যন্ত্রনা সহ্য করে মানুষ।
গতবার আমার আর শিমুলের খুব ইচ্ছে ছিলো আমাদের তিনজনের বই একসাথে বের হোক শস্যপর্ব থেকে। গতবার হয়নি। তবে এবার আসলেই প্রকাশিত হচ্ছে লেখক তারেক নূরুল হাসান, প্রিয় ব্লগার, বন্ধুবর কনফুসিয়াসের ছয়টি গল্প নিয়ে গল্পগ্রন্থ "কাঠের সেনাপতি"। এই বইটির জন্য তো অপেক্ষায় থাকতেই হবে! হবেই!
© অমিত আহমেদ




2 টি মন্তব্য:
আমিও অপেক্ষার লাইনে...আরেকটি বইয়ের জন্য অপেক্ষায় আছি, সেটি হচ্ছে সবুজ বাঘের লুহার তালা।
আমিও - যে বইগুলোর অপেক্ষায় ৫।
Post a Comment