| এলোমেলো মাশীদ আহ্মদ প্রকাশক: নজমুল আলবাব, শস্যপর্ব পরিবেশক: পাঠসূত্র প্রকাশনী প্রচ্ছদশিল্পী: আহমেদ অরূপ কামাল কাব্য ও আলোকচিত্র, ৩২ পৃষ্ঠা পুরো বই চার রঙে আর্ট পেপারে ছাপা মূল্য ১৫০ টাকা |
নির্লজ্জের মতো নিজেকেই উদ্ধৃত করে শুরু করি। একবার বলেছিলাম, "মাশীদ আপু আমার অত্যধিক প্রিয় একজন মানুষ। কারণটা খুব সহজ - উনার সাথে আমার মানসিকতা একদম মিলে যায়। এই মানসিকতা মেলানোর ব্যাপারটা কিন্তু খুব সহজ নয়, বিশেষ করে যখন সেটা আমাদের মতো হয়। আর তাই অবিরত এর-তার সাথে মিলিয়ে-মানিয়ে চলে হঠাৎ নিজের মতো আরেকজন বাঙালি খুঁজে পাওয়ার মধ্যে একটা ক্রিস্টোফার কলোম্বাসীয় আনন্দ আছে। মাশীদ আপুর সাথে পরিচিত হয়ে আমি সেই আনন্দ পাই।"
তাই, অমিত আহমেদের মাশীদ আহ্মদকে নিয়ে লিখতে যাওয়ার মধ্যে কিঞ্চিত প্রায়োগিক সমস্যা আছে। নিজেকে যতোই অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে রাখি না কেনো, সম্ভাবনা থেকে যায় যা দেখতে চাই না তা কখনোই দেখতে না পাবার। তাঁকে নিয়ে তাই আমার মাঝে মুগ্ধতা ছাড়া আর কিছু নেই।
মাশীদাপুর সাথে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ যে ঠিক কী কারণে হয়ে উঠলো তা একদমই মনে নেই! তবে সুযোগটা ছিলো আগেই। নটর ডেমের সময়গুলোতে প্রায়ই বুয়েট পাড়ায় যেতাম। বন্ধু-বান্ধব ছিলো। লাল পাড়ার সীমানা ঘেঁষে যে টঙ দোকান, তার স্পেশাল চিকেনবানের লোভও ছিলো। আর আমার জিগরি দোস্তের বাসা ছিলো ঠিক মাশীদাপুদের দালানেই। তাঁকে তখন দেখলেও কখনো পরিচয় হয়নি। শেষে পরিচয় হলো সচলায়তনের হাত ধরে তাঁর কবিতা পড়ে।
কবি মাশীদ আহ্মদের কবিতাগুলো নির্ভার ও গতিময়। তিনি ছোট ছোট ব্যবচ্ছেদে ছন্দ সাজান। সেই ছন্দ একটি সূতোয় বাঁধা থাকে না বলে তাঁর কবিতাগুলি হয় চড়ুই পাখির মতো চঞ্চল। অবসরহীন পড়ে যাবার মতো। কাউকে সামনে বসিয়ে আবৃত্তি করার মতো।
তাঁর কবিতা বলে নির্ভরতা, স্বপ্ন ও কল্পনার কথা। তাঁর কবিতায় তাই ফেলে আসা দিনের চেয়ে বর্তমানটাই প্রধান হয়ে ওঠে। অভিমান, হতাশা, আর বিষাদ অবগাহনেও তাঁর কবিতার নির্যাস হয়ে ওঠে খাঁটি আশাবাদ। সব অভিযোগ জানিয়েও অনেকটা বিচারকের রায় দেবার মতোই শেষ কথাটি বলে দেন কবি নিজেই। জানিয়ে দেন, যাচ্ছেতাই যা কিছু সব মেনে নেবার ইচ্ছে বা মানসিকতা কোনোটাই তাঁর নেই।
ফটোগ্রাফার হিসেবে মাশীদ আহ্মদ সনাতন ধারায় বিশ্বাসী। একনাগাড়ে অসংখ্য ছবি তুলে পরে সেগুলোর যাচাই বাছাই ও পরিমার্জনায় সময় নষ্ট না করে তিনি বরং সময় নিয়ে ছবি তুলতেই বেশি পছন্দ করেন। ফ্লিকারে আপলোড করা তাঁর ছবিগুলো এজন্য অধিকাংশই কোনো পরিমার্জন সফটওয়্যারের আঁচড়মুক্ত।
তাঁর ছবির যে জিনিসটি আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে তা হলো বিষয় ও পট নির্বাচনে মুন্সিয়ানা। কী দুর্দান্ত একেকটি ছবি! শৌখিন ফটোগ্রাফাররা পেশাদার ফটোগ্রাফারদের ফরমায়েশি ও হুজুগে ছবি তোলার বাধ্যকতা থেকে মুক্ত। তাঁদের তোলা ছবি দেখলে তাই অনেকাংশেই তাঁদের মানসিকতা ধরে ফেলা যায়।
এজন্যই হয়তো মাশীদ আহ্মদের গতিময়তা আর আশাবাদের ছাপ থেকে যায় তাঁর তোলা ছবিতেও। এমন কী খুব নিরেট, স্থির একটি ভাস্কর্যের ছবিতেও চলে আসে মেঘ, উড়ে যাওয়া কোনো পাখি কিংবা ঘুড়ির তীব্রতা। কৌনিক অ্যাঙ্গেলে থাকে গতিময়তা। আর রঙের উচ্ছ্বাসে হয়ে যায় স্বপ্নীল মনের মুদ্রণ।
মাশীদ আহ্মদের ছন্দ ও ছবি এ দুই-ই তাই সামনে তাকিয়ে পথ চলার কথা বলে। হতাশা ফেলে স্বপ্ন দেখার কথা বলে। আর এ দুইয়ের সম্মিলনেই এবারের বইমেলায় এক মলাটে প্রকাশ পাচ্ছে তাঁর প্রথম গ্রন্থ "এলোমেলো"।
আর "বইটির অপেক্ষায় আছি" সে ঘোষণা... সে তো বাহুল্য মাত্র!
© অমিত আহমেদ




3 টি মন্তব্য:
বইটার প্রচ্ছদছবি খুব পছন্দ হয়েছে।
কী বলব বুঝতে পারছি না।
অনেক অনেক অনেক ধন্যবাদ অমিত... :-)
কিছু বলতে হবে না মাশীদাপু। বইয়ে একটা অটোগ্রাফ দিলেই হবে :-)
Post a Comment