Sunday, January 31, 2010

যে বইগুলোর অপেক্ষায় ১: ম্যাগনাম ওপাস ও কয়েকটি গল্প

ম্যাগনাম ওপাস ও কয়েকটি গল্প
মাহবুব আজাদ

প্রকাশক: নজমুল আলবাব, শস্যপর্ব
পরিবেশক: পাঠসূত্র প্রকাশনী
প্রচ্ছদ আলোকচিত্র: মেহদী হাসান খান
প্রচ্ছদসজ্জা: নজমুল আলবাব 
গল্পগ্রন্থ, ৯৬ পৃষ্ঠা
মূল্য ১২০ টাকা

সহব্লগারের বই নিয়ে লিখতে গেলে কিছু ব্যক্তিগত কথা কিছু উঠে আসবেই। এটা এড়ানো কঠিন, এড়ানোর দরকার আছে বলেও মনে করি না। হিমু ভাইয়ের বই নিয়ে কথা বলতে গেলে ব্লগার হিমু ভাই, যাঁকে কখনো দেখিনি, যাঁর সাথে দৈনিক অন্তর্জালে, কিংবা সপ্তাহান্তে ফোনে কথা হয় না, তবু তাঁকে নিয়ে আমার ব্যক্তিগত চিন্তা চলে আসবে।

ব্লগপরিমন্ডলে অনেকের সাথেই চেনাজানা হয়। তবে সামান্য চেনা থেকে ভাই, বোন, কিংবা বন্ধুর কাতারে উঠে আসাটা কঠিন। কারণ ব্লগ জীবনটা এমনই যে একজন ব্লগার শুধু নিপুণ লেখনী দিয়ে কারো মনে জায়গা করে নিতে পারেন না। একজন ব্লগারের পরিচিতি গড়ে ওঠে লেখক-পাঠকের মিথষ্ক্রিয়ায়। ব্লগারের অবস্থান, দেশপ্রেম এ সবই তাই মাপকাঠিতে চলে আসে।

ব্লগার হিমু ভাইকে আমি খাওয়া-ঘুম ফেলে অন্তর্জালে রাজাকার, নিও-রাজাকার তাড়াতে দেখেছি। ক্লান্তিহীন পোস্টে দেখেছি দেশ নিয়ে ভাবনা। যখনই কোনো সংবাদ পড়েছেন, কোনো অনিয়ম-অনাচারে কষ্ট পেয়েছেন, দেশ পরিচালনা-ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি দেখেছেন - সচলায়তনে একটা পোস্ট দিয়েছেন। যে ভাবনা হয়তো ক্ষণিকের ছিলো, ক্ষণিকেই হয়তো থেমে যেতো, পোস্টের আলোচনা তর্ক-বিতর্কে তা সংক্রামিত হয়েছে অন্যতেও। তাঁর এই উদ্যম অতিক্রম করে যেতে পারে অন্য সব দোষ-ভুল-ত্রুটি।

লেখক মাহবুব আজাদকে নিয়ে এসব কথা না বললেও চলতো। তবু বললাম, কারণ ওই যে, ব্যক্তিগত কথা চলে আসবেই। মাহবুব আজাদ তো শুধু আর লেখক মাহবুব আজাদ থাকেননি, তিনি হয়ে গিয়েছেন ভাই, হিমু ভাই!

তাঁর উইটের ভক্ত আমি। একটা লেখা রসে চুবিয়ে, হাসিয়ে, কিভাবে ঠিক জায়গাটিতে হানা দিতে হয় তা তিনি জানেন। তবে শুধু হাস্যরসেই তিনি আটকে থাকেন না। একটা কথা একশো ভাবে বলা যেতে পারে। এক হাজার ভাবে দেখা যেতে পারে। একজন লেখক লেখার আগে এগুলোর ঠিক কতোটা যাচাই-বাছাই করতে পারেন তার উপরে লেখার ক্ষমতা অনেকাংশেই নির্ভর করে। মাহবুব আজাদের লেখার বেশ আগের পাঠক আমি। লেখা পড়ে এ বিষয়ে তাঁর দক্ষতা নিয়ে অন্তত কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়।

বিষয়টি পরিস্কার হয় তাঁর ভিন্নধর্মী কয়েকটি লেখা পরপর সাজিয়ে পড়লে। গোয়েন্দা ঝাকানাকা গল্পগুলো যেমন আমাদের আমোদ দেয়, ফুটোস্কোপিক গল্পগুলো যেমন হাসায়, পিচ্চিতোষ গল্পগুলো যেমন মায়ায় আটকে রাখে, ঠিক তেমনি বিলুপ্তির মতো গল্পগুলো আমাদের ঠিক ঠিক নাড়িয়ে দিয়ে যায়।  তিনি লিখেন সায়েন্স ফিকশন, লিখেন রহস্যগল্প, কবিতা। লিখেন এমন সব গল্প, যেগুলো একটা লিখতে পারলে আমার ভালো লাগতো।

তাই, মাহবুব আজাদের প্রথম বই "ম্যাগনাম ওপাস ও কয়েকটি গল্প" এর জন্য অপেক্ষা শুধু তিনি হিমু ভাই বলেই নয়। কারণ জানি বইয়ে তাঁর সাতটি ছোটগল্পই উজ্জ্বল হয়ে থাকবে সাহিত্যগুনে স্বতন্ত্রে, রঙধনুর সাতটি রঙের মতোই।

© অমিত আহমেদ

Sunday, January 03, 2010

পঞ্চম ষড়ব্লগ

এক

২০০৯ সালটা কেমন গেলো? বয়স বাড়ার সাথে সাথে ব্যক্তিগত ঝামেলা বাড়বে। সে নিয়ে অনুযোগ জানিয়ে লাভ নেই। লেখাপড়া বেশ চলছে। মাঝে সময় করে প্রায় এক মাসের জন্য দেশেও গিয়েছিলাম। বাবা-মা-ভাই-আত্মীয় সবাই ভালো আছেন।

জানি। পাকিস্তান, ইরাক, আফ্রিকা, ভারত সহ অনেক দেশে আতঙ্কবাদী হামলা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশে-বিদেশে মারা গেছে অসংখ্য মানুষ। সড়ক, আকাশ, কিংবা পানিপথ কোনোটাই এবার সুরক্ষিত ছিলো না। প্যালেস্টাইন, ইরাক, আফগানিস্তানে মারা গেছেন অসংখ্য নির্দোষ মানুষ, শিশু। আফ্রিকাতে এ বছরেও কোনো উন্নতি হয়নি। বরং সামরিকজান্তা আর ভিনদেশী বেনিয়াদের অত্যাচার বেড়েছে আরো। অর্থনৈতিক মন্দায় চাকরি হারিয়েছেন হাজার হাজার চাকুরে। আত্নহত্যা করেছেন হঠাৎ নিঃস্ব হয়ে পড়া অসংখ্য ব্যবসায়ী। অনেক চেনা মুখ মারা গেছেন। যাঁদের অনেকেরই হয়তো আরো অনেকদিন বেঁচে থাকার কথা ছিলো।

তবুও। দেশে যুদ্ধপরাধীরা সংসদের ছাড়পত্র পায়নি। বঙ্গবন্ধু হত্যারও রায় বেরুলো। যুদ্ধপরাধীদের বিচার নিয়ে সরব হয়ে উঠছে মানুষ। ক্রিকেট বেশ খেলেছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠছে পুরো বিশ্ব। বেশ কয়েকটি মহামারি সামাল দেয়া গেছে। ইরাক আর আফগানিস্তান থেকে সেনা সরাবার প্রতিজ্ঞা করেছে ওবামা। ইরানে চলছে ছাত্র বিপ্লব। সারা বিশ্ব জুড়েই মানুষ পরিবেশ, অবিচার, আর দারিদ্র নিয়ে সচেতন হচ্ছে। আশা করি নতুন বছরেও এ গতি বজায় থাকবে। আর সচেতনতার সাথে সাথে আসবে সমাধানও।

দুই

নববর্ষের পরপরই রাজাকার ছানারা মুহম্মদ জাফর ইকবালের একটি ভিডিও নিয়ে লাফালাফি শুরু করে। ভিডিওতে দেখা যায় তিনি ছাত্রীদের সাথে হিন্দী গানের তালে নাচছেন। নাচতে নাচতে একটি মেয়ের কাঁধ ধরে কাছে টানছেন। ঘটনা হলো ছাত্রীহলের প্রভোস্ট হিসেবে ইয়াসমিন হক গিয়েছিলেন ছাত্রী সংসদের আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে। সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তাঁদের সন্তান ইয়েশিম ইকবালকে। সেখানে তাঁরা সবাই একসাথেই ছিলেন। আর যে মেয়েটিকে মুহম্মদ জাফর ইকবাল কাছে টানছিলেন, সে তাঁর নিজেরই মেয়ে (সূত্র)।

এই সামান্য ঘটনাকে নিও-রাজাকারেরা তাদের বিকৃত মানসিকতা দিয়ে বিকৃত করেছে। সেখানে যে তিনি সপরিবারে ছিলেন সেই তথ্য গোপন করেছে। মেয়েকে বানিয়ে দিয়েছে ছাত্রী। তবে মেয়েটি যদি ছাত্রীও হতো, তবেই বা কী ক্ষতিবৃদ্ধি হতো? শিক্ষক তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের কাঁধে হাতও রাখতে পারবেন না? ভিডিওটির এতো দ্রুত ইন্টারনেট জুড়ে (ইমেইল, ব্লগ, ফেসবুক, ইউটিউব, ইত্যাদি) ছড়িয়ে পড়া দেখেই বোঝা যায় তারা একদম আঁট-ঘাঁট বেঁধেই নেমেছে। তাঁর বিরুদ্ধে কিছু বলার সুযোগ পেলেই তারা অবশ্য এমনিতেই ছাড়ে না। তবে একজন শ্রদ্ধেয় মানুষের ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেবার মতো ন্যাক্কারজনক কাজ আর নেই। নিও-রাজাকারেরা কার্যসিদ্ধির জন্য কতটা নিচে নামতে পারে তার প্রমান তারা আরেকবার রাখলো।

তিন

ফেসবুকে ইদানিং আরেকটি ছবি খুব দেখছি। হুমায়ূন আহমেদ এবং তাঁর সহধর্মীনি শাওন আহমেদের যুগল ছবি। এই ছবিও খুব ছড়ানো হচ্ছে। সবাই এসে খুব চটুল মন্তব্য করে যাচ্ছেন। এই ব্যাপারটাও আমার কাছে যথেষ্ঠ নোংরা লেগেছে। স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি সবখানে ছড়িয়ে দিয়ে আজে-বাজে মন্তব্য করার মধ্যে কোনো বাহাদুরি নেই।

বিশেষ দ্রষ্টব্য

মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ইয়াসমিন হক, ইয়েশিম ইকবাল, হুমায়ূন আহমেদ, শাওন আহমেদ, এবং অন্যান্যদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান দেখিয়ে তাঁদের ছবি ও ভিডিওর লিংক এখানে দিলাম না।

চার

ক'দিন আগের কথা। রাত্তিরে হেঁটে বাসায় আসছি। একটার মতো বাজে। বরফে সব সাদা হয়ে আছে। হিম ঠান্ডা। দেখি ফাঁকা রাস্তার পাশে গাছতলায় সোনালী চুলের একটা মেয়ে একা দাঁড়িয়ে আছে। আমার হয়তো হেঁটে চলে যাওয়া উচিত ছিলো। তবু কী মনে করে দাঁড়িয়ে যাই। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করি, "সব ঠিক আছে তো?" মেয়েটা ঢালে বরমের মাঝে পড়ে থাকা একটা প্রানীর নিথর দেহ দেখিয়ে বলে, "এখনো বেঁচে আছে! এভাবে ঠান্ডায় পড়ে থাকলে তো মারা যাবে!" তাকিয়ে দেখি। বেশ বড়-সড় একটা স্কাঙ্ক। একদমই নাড়াচাড়া নেই। আমি বলি, "মারা গেছে। এখানে এভাবে দাঁড়িয়ে থেকে তুমি কী করবে? চলো তো আমার সাথে!" মেয়েটা আমাকে অন্যপাশে নিয়ে যায়। বলে, "এখান থেকে দেখো, ওই যে বুক নড়ছে।" দেখি আসলেই তাই!

এর মাঝে আমাদের দেখে আরেকজন ছেলে দাঁড়িয়ে পড়েছে। আমার কাছে এনিমেল সার্ভিসেস এর নাম্বার ছিলো না। মেয়েকে বললাম, "আমি বাসায় গিয়েই ফোন করছি। এখানে দাঁড়িয়ে থেকে আমরা আর কী উপকার করছি বলো?" ছেলেটাও সায় দেয়।

বাড়ি ফিরেই ইন্টারনেট ঘেঁটে এনিমেল সার্ভিসেস এ কল দেই। অপারেটর মেয়েটা বলে, "তোমার আগেই একজন রিপোর্ট করেছে। আমাদের লোক পৌঁছে যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। তুমি চাইলে ওখানে থাকতে পারো।" ফোনটা নামিয়ে রাখতে রাখতে আমার দু'টো পোস্টের কথা মনে পড়ে যায় (আমার পোস্ট, বন্ধুবর তারেকের পোস্ট)।

হাঃ দীর্ঘশ্বাস!

পাঁচ

এ অংশটুকু পূর্বের একটি পোস্ট থেকে তুলে আনা। সেই পোস্টের বিষয়বস্তুর সাথে এই অংশটুকু ঠিক যাচ্ছিলো না।

লেখালেখি করতে ভালো লাগছে না। লেখালেখি বলতে অবশ্য গল্প-উপন্যাস এর কথা বলছি। মাঝে মাঝে ডায়রি লেখার মতো এমন ব্লগ লিখতে মন্দ লাগে না। মনে হয় নিজের সাথেই নিজে কথা বলছি। মনটা বেশ হালকা হয়ে যায়।

লেখালেখি করতে কেনো ভালো লাগছে না সেটা নিয়ে ভেবেছি। প্রধান কারণ হলো "সময়"। হাতে সময় একদমই নেই। অবসর একটু যা পাই সেটুকু বন্ধুদের সাথে সময় কাটিয়ে ঘুরে-ফিরে শেষ হয়ে যায়। লিখতে আর পারি না। এই ব্যস্ততা যে আগে ছিলো না তা নয়। কিন্তু আগে কেনো যেনো একটা তাগিদ বোধ করতাম নিজের মধ্যে। মাথায় কোনো প্লট এলে সেটা না লেখা পর্যন্ত অস্বস্থি লাগতো। ব্লগ পরিমন্ডলের সবাই পরিবারের মতো ছিলাম। মনে হতো তাদের সাথে গল্পটা ভাগ করে নিতে হবে। এখন কোথায় যেনো সুর কেটে গেছে বলে মনে হয়।

ছয়

এবারের বইমেলায় খুব কাছের তিনজন মানুষের প্রথম বই বেরুচ্ছে।

প্রথমেই বলতে হয়, রুদ্র বাদল, আমার ছোট মামার কথা। আমার লেখালেখির অভ্যাসের পেছনে যেই দু'জন আছে তারা হলো আমার ছোটমামা, আর আমার ছোটভাই। একটা সময় ছিলো যখন এই দু'জন ছাড়া আর কেউ আমার লেখার পাঠক ছিলো না। ছোটবেলায় আমার নানান ঝোঁক উঠতো। কখনো গোয়েন্দা দল, কখনো ল্যাবরেটরি, কখনো ছবিআঁকা, কখনো বা লেখালেখি। মামা এসব কিছুর সাথেই মানিয়ে চলতেন। সব কিছুতেই সমান উৎসাহ দিতেন। ছোটদের অনেক পত্রিকা আর সোভিয়েত সাহিত্যের খোঁজও পেয়েছি মামার কাছ থেকেই। তিনি নিজে চিত্রকর। এখন তেমন আর আঁকেন না। তবে কবিতা এখনো লেখেন। চমৎকার সব কবিতা। এবার অবশেষে তাঁর কবিতার বই বেরুচ্ছে, নাম "কান্না বিষয়ক শব্দাবলী"।

মাশীদাপু, মানে মাশীদ আহমেদ-কে নিয়ে তো আগেও লিখেছি (লিংক)। আমার অসম্ভব প্রিয় একজন মানুষ। তার তোলা ছবি (ফ্লিকার) আর লেখা, বিশেষ করে ছড়াগুলো দুর্দান্ত লাগে। এমন কিছু ছড়া-কবিতার সংকলন নিয়ে এবার মাশীদাপুর প্রথম বই আসছে "এলোমেলো" নামে।

বন্ধুবর তারেক, ওরফে কনফুসিয়াস, ওরফে তারেক নুরুল হাসান-এর গল্পের বই আসছে। ব্লগপরিমন্ডলই যাঁদের সাহিত্যচর্চার মূলমাধ্যম, তাদের মধ্যে থেকে তারেককে একটু আলাদা করে রাখতেই হবে। তার গল্পের বুনোন, আর কাহিনীর বিন্যাস মাঝে মাঝে এতোটাই মুগ্ধ করার মতো যে অন্য মাধ্যমের লজ্জাই পাওয়া উচিত। গতবার যখন আমার আর আনোয়ার সাদাত শিমুল-এর বই বের হলো তখন আমরা খুব করে ধরেছিলাম ওকেও। একসাথে তিন বন্ধুর বই বের হলে কী উত্তেজক একটা ব্যাপার হবে! সেটা আর হয়নি। কিন্তু একবছর প্রতীক্ষার পর, তারেকের বই আসলেই বেরুচ্ছে। নাম, "কাঠের সেনাপতি"।

এই তিনটি বই-ই আসছে শ্রদ্ধেয় বড়ভাই নজমুল আলবাব এর শস্যপর্ব প্রকাশন থেকে। লেখক ও প্রকাশককে আগাম শুভেচ্ছা। আশা করছি এ তিনটি বই-ই পাঠকপ্রিয়তা পাবে।

© অমিত আহমেদ