Sunday, February 14, 2010

২০১০ বইমেলায় আমার বই

এই বইমেলায় আমার উপন্যাস গন্দম (প্রথম প্রকাশ বইমেলা ২০০৮) পাওয়া যাচ্ছে জাগৃতি প্রকাশনীর স্টলে (স্টল # ৮৪-৮৫)।
এবং গল্পগ্রন্থ বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময় (প্রথম প্রকাশ বইমেলা ২০০৯) এর দ্বিতীয় মুদ্রণ মেলায় এসেছে গত শুক্রবার; নতুন পরিবেশক পাঠসূত্রের হাত ধরে; পাওয়া যাচ্ছে পাঠসূত্রের স্টলে (স্টল # ৭৩-৭৪)।

প্রবাসীরা বই'দুটি অন্তর্জালে কিনতে পারবেন বইমেলা ডট কম ওয়েবসাইটের এই পাতা থেকে।

শুভেচ্ছান্তে,

অমিত আহমেদ


গন্দম (উপন্যাস)
জাগৃতি প্রকাশনী
প্রথম প্রকাশ: একুশে বইমেলা ২০০৮
প্রচ্ছদশিল্পী: ইসমাইল গনি হিমন
১২৭ পৃষ্ঠা, মুদ্রিত মূল্য ১৩৫ টাকা

বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময় (গল্পগ্রন্থ)
শস্যপর্ব প্রকাশন, পরিবেশক: পাঠসূত্র প্রকাশন
প্রথম প্রকাশ: একুশে বইমেলা ২০০৯
দ্বিতীয় মুদ্রণ: একুশে বইমেলা ২০১০
প্রচ্ছদশিল্পী: অমিত আহমেদ
১১২ পৃষ্ঠা, মুদ্রিত মূল্য ১৪০ টাকা

আর অণুগল্পের ইবই ফেলে আসা গল্প যতো ডাউনলোড করা যাবে এখান থেকে।

Thursday, February 11, 2010

২০১০ বইমেলায় ব্লগারদের বই

এই লেখাটি আমার "যে বইগুলোর অপেক্ষায়" ধারাবাহিকের শেষ কিস্তি। পূর্বের লেখাগুলোতে যেই বইগুলোর প্রতিক্ষায় আছি সেগুলো সম্পর্কে জানিয়েছি।

পর্ব , , , , , ,

এই পর্বে ব্লগারদের বই এবং ব্লগ সংকলনের তালিকা তুলে দিচ্ছি; এর অনেকগুলোই আমার কেনবার ব্যক্তিগত তালিকায় রয়েছে।

যে বইগুলোর অপেক্ষায় ৭: এলোমেলো

এলোমেলো
মাশীদ আহ্‌মদ

প্রকাশক: নজমুল আলবাব, শস্যপর্ব
পরিবেশক: পাঠসূত্র প্রকাশনী
প্রচ্ছদশিল্পী: আহমেদ অরূপ কামাল
কাব্য ও আলোকচিত্র, ৩২ পৃষ্ঠা
পুরো বই চার রঙে আর্ট পেপারে ছাপা
মূল্য ১৫০ টাকা

নির্লজ্জের মতো নিজেকেই উদ্ধৃত করে শুরু করি। একবার বলেছিলাম, "মাশীদ আপু আমার অত্যধিক প্রিয় একজন মানুষ। কারণটা খুব সহজ - উনার সাথে আমার মানসিকতা একদম মিলে যায়। এই মানসিকতা মেলানোর ব্যাপারটা কিন্তু খুব সহজ নয়, বিশেষ করে যখন সেটা আমাদের মতো হয়। আর তাই অবিরত এর-তার সাথে মিলিয়ে-মানিয়ে চলে হঠাৎ নিজের মতো আরেকজন বাঙালি খুঁজে পাওয়ার মধ্যে একটা ক্রিস্টোফার কলোম্বাসীয় আনন্দ আছে। মাশীদ আপুর সাথে পরিচিত হয়ে আমি সেই আনন্দ পাই।"

তাই, অমিত আহমেদের মাশীদ আহ্‌মদকে নিয়ে লিখতে যাওয়ার মধ্যে কিঞ্চিত প্রায়োগিক সমস্যা আছে। নিজেকে যতোই অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে রাখি না কেনো, সম্ভাবনা থেকে যায় যা দেখতে চাই না তা কখনোই দেখতে না পাবার। তাঁকে নিয়ে তাই আমার মাঝে মুগ্ধতা ছাড়া আর কিছু নেই।

মাশীদাপুর সাথে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ যে ঠিক কী কারণে হয়ে উঠলো তা একদমই মনে নেই! তবে সুযোগটা ছিলো আগেই। নটর ডেমের সময়গুলোতে প্রায়ই বুয়েট পাড়ায় যেতাম। বন্ধু-বান্ধব ছিলো। লাল পাড়ার সীমানা ঘেঁষে যে টঙ দোকান, তার স্পেশাল চিকেনবানের লোভও ছিলো। আর আমার জিগরি দোস্তের বাসা ছিলো ঠিক মাশীদাপুদের দালানেই। তাঁকে তখন দেখলেও কখনো পরিচয় হয়নি। শেষে পরিচয় হলো সচলায়তনের হাত ধরে তাঁর কবিতা পড়ে।

কবি মাশীদ আহ্‌মদের কবিতাগুলো নির্ভার ও গতিময়। তিনি ছোট ছোট ব্যবচ্ছেদে ছন্দ সাজান। সেই ছন্দ একটি সূতোয় বাঁধা থাকে না বলে তাঁর কবিতাগুলি হয় চড়ুই পাখির মতো চঞ্চল। অবসরহীন পড়ে যাবার মতো। কাউকে সামনে বসিয়ে আবৃত্তি করার মতো।

তাঁর কবিতা বলে নির্ভরতা, স্বপ্ন ও কল্পনার কথা। তাঁর কবিতায় তাই ফেলে আসা দিনের চেয়ে বর্তমানটাই প্রধান হয়ে ওঠে। অভিমান, হতাশা, আর বিষাদ অবগাহনেও তাঁর কবিতার নির্যাস হয়ে ওঠে খাঁটি আশাবাদ। সব অভিযোগ জানিয়েও অনেকটা বিচারকের রায় দেবার মতোই শেষ কথাটি বলে দেন কবি নিজেই। জানিয়ে দেন, যাচ্ছেতাই যা কিছু সব মেনে নেবার ইচ্ছে বা মানসিকতা কোনোটাই তাঁর নেই।

ফটোগ্রাফার হিসেবে মাশীদ আহ্‌মদ সনাতন ধারায় বিশ্বাসী। একনাগাড়ে অসংখ্য ছবি তুলে পরে সেগুলোর যাচাই বাছাই ও পরিমার্জনায় সময় নষ্ট না করে তিনি বরং সময় নিয়ে ছবি তুলতেই বেশি পছন্দ করেন। ফ্লিকারে আপলোড করা তাঁর ছবিগুলো এজন্য অধিকাংশই কোনো পরিমার্জন সফটওয়্যারের আঁচড়মুক্ত।

তাঁর ছবির যে জিনিসটি আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে তা হলো বিষয় ও পট নির্বাচনে মুন্সিয়ানা। কী দুর্দান্ত একেকটি ছবি! শৌখিন ফটোগ্রাফাররা পেশাদার ফটোগ্রাফারদের ফরমায়েশি ও হুজুগে ছবি তোলার বাধ্যকতা থেকে মুক্ত। তাঁদের তোলা ছবি দেখলে তাই অনেকাংশেই তাঁদের মানসিকতা ধরে ফেলা যায়।

এজন্যই হয়তো মাশীদ আহ্‌মদের গতিময়তা আর আশাবাদের ছাপ থেকে যায় তাঁর তোলা ছবিতেও। এমন কী খুব নিরেট, স্থির একটি ভাস্কর্যের ছবিতেও চলে আসে মেঘ, উড়ে যাওয়া কোনো পাখি কিংবা ঘুড়ির তীব্রতা। কৌনিক অ্যাঙ্গেলে থাকে গতিময়তা। আর রঙের উচ্ছ্বাসে হয়ে যায় স্বপ্নীল মনের মুদ্রণ।

মাশীদ আহ্‌মদের ছন্দ ও ছবি এ দুই-ই তাই সামনে তাকিয়ে পথ চলার কথা বলে। হতাশা ফেলে স্বপ্ন দেখার কথা বলে। আর এ দুইয়ের সম্মিলনেই এবারের বইমেলায় এক মলাটে প্রকাশ পাচ্ছে তাঁর প্রথম গ্রন্থ "এলোমেলো"।

আর "বইটির অপেক্ষায় আছি" সে ঘোষণা... সে তো বাহুল্য মাত্র!

© অমিত আহমেদ

Tuesday, February 09, 2010

যে বইগুলোর অপেক্ষায় ৬: কান্না বিষয়ক শব্দাবলী

কান্না বিষয়ক শব্দাবলী
রুদ্র বাদল

প্রকাশক: নজমুল আলবাব, শস্যপর্ব
পরিবেশক: পাঠসূত্র প্রকাশনী
প্রচ্ছদশিল্পী: ইসমাইল গনি হিমন 
কাব্যগ্রন্থ, ৩২ পৃষ্ঠা
মূল্য ৫০ টাকা

খুব ছোটবেলার ঘটনা। মা'র সাথে নানাবাড়ি গিয়েছি। গভীর রাত্তিরে দরজায় ধাক্কা। হঠাৎ ঘুম ভেঙে সন্ত্রস্ত সবাই। দরজা খুলে দিতেই ঝাঁকড়া চুল-দাড়ি-গোঁফের জঙ্গলে ঢাকা একটি মানুষ হুড়মুড়িয়ে ঘরে ঢুকে পড়েন। জানতে পারি তিনি আমার ছোটমামা। পড়েন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে। সেখান থেকে কাউকে না জানিয়ে, শরীরে প্রচন্ড জ্বর নিয়েই, বাসায় চলে এসেছেন। জ্ঞান হবার পর ছোটমামাকে নিয়ে সেটাই আমার প্রথম স্মৃতি।

জ্বী। কবি রুদ্র বাদল, যাঁকে আমি বাচ্চু মামা বলে ডাকি, তিনি আমার আপন মামা। চার মামার মধ্যে সবচেয়ে ছোট। তাঁকে নিয়ে লিখতে বসলে যে স্মৃতিচারণের পাল্লা ভারী হয়ে পড়বে, তাতে আর বিস্ময় কী!

সাভারে, আমার নানাবাড়ির সদর দরজা দিয়ে ঢুকে, বাগান পেরুলেই লম্বা টানা বারান্দা। সেই বারান্দার ডান কোনে একটি ছোট্ট কামরা নিয়ে থাকতেন বাচ্চু মামা। শৈশবে, সঙ্গত কারণেই, সেই কামরাটি নিয়ে আমার আগ্রহের সীমা ছিলো না। কামরা ভর্তি অসংখ্য বই! রঙতুলি, প্যালেট, ক্যানভাস। সদ্য আঁকা ছবি। হাতে গড়া ভাস্কর্য। ভেতরে সবার প্রবেশাধিকার না থাকলেও আমার জন্য কোনো বিধিনিষেধ ছিলো না। আমি সটান ঢুকে পড়তাম। মামা হাতে তুলে দিতেন মুহম্মদ শহীদুল্লাহর "আঙুর", আর্কাদি গাইদারের "ছোরা", বিভূতিভূষণের "চাঁদের পাহাড়"। দেশি-বিদেশী কত্ত বই আর পত্রিকার খোঁজ যে পেয়েছি মামার কাছে!

আর শুধু বই তো নয়। সে সময় এনতার শখ আমদানি করে মা'কে ব্যতিব্যস্ত করে রাখতাম। ছবি আঁকা, ছড়া লেখা, গোয়েন্দা দল, ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার, ল্যাবরেটরি, বয়স্কাউট, জুডো, মেডিটেশন, ডাকটিকেট, কয়েন, ম্যাচবাক্স, স্টিকার, পোস্টকার্ড, ফুটবল, ক্রিকেট, কী নয়! তার উপর ঘর ভর্তি ছিলো একগাদা পশুপাখি। আর এ সব কিছুর পেছনেই ভাগনার কোনো না কোনো সুপ্ত প্রতিভার খোঁজ পেয়ে যেতেন মামা। আর সেই সুপ্ত প্রতিভা যেনো লুপ্ত হয়ে না যায় সেজন্য সাথে করে নিয়ে যেতেন জাতীয় জাদুঘর, বিজ্ঞান জাদুঘর, শিশুপার্ক, বইমেলা।

আমার লেখালেখির পেছনে মামার অবদান ভোলার নয়। একটা সময় ছিলো যখন আমার ছোটভাই আর মামাকে ছাড়া আর কাউকেই আমার লেখালেখির খাতাটা দেখাতাম না। এখন বুঝি কী নিঃস্বার্থ ভাবেই না মামা আমাকে উৎসাহ দিয়ে গেছেন। আমার সব নিয়ে প্রণোদনা দিয়েছেন কিন্তু নিজের কথা বলেননি কখনোই। অনেকদিন পর্যন্ত আমি জানতামই না যে মামা কবিতা লিখেন... জানতাম না রুদ্র বাদল শুধু আমার মামা নন, একজন কবিও।

যে কবির কবিতায় অনুক্ষণের ভাবনা আর সেই সময়ের বোধটুকু জলচিত্রের মতো আঁকা হয়ে যায়। রঙের বাহুল্যে বিমূর্ততার ডাল-পালা ছড়ানো কোনো মহাবৃক্ষ নয়; বরং যেনো মূহূর্তের বোধে ভর করে বেড়ে ওঠা কোনো তরুলতা। অকপট ভাবনা। তাই কবি রুদ্র বাদলের কবিতায় ধাক্কা নেই। বরং অবলম্বনের নিশ্চয়তা আছে। ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা আছে। তাঁর কবিতা তাই অনর্গল পড়ে যাওয়া যায়।

পড়তে গিয়ে আমরা নিত্য তাঁকে আবিষ্কার করি। কবিতার অলিগলি ঘুরে আমরা শুনতে পাই ঘোর লাগা সেই সন্ধ্যার হাহাকার। কোনো একজনকে নিয়ে ভাবনার উত্তালতা। পাওয়ার উল্লাস। না পাওয়ার আক্ষেপ। কোনো মহামানব নয়, তাঁর কাব্যে আমরা সাধারণ একজন মানুষেরই প্রতিবিম্ব দেখি। যিনি মানবিক কোনো কিছু থেকেই বঞ্চিত নন। নন লজ্জিতও। তাই আমরা তাঁকে কাঁদতে দেখি। তাঁর প্রেম দেখি। অসহায়ত্বের চাপা রাগ, বিদ্রোহ দেখি। দেখি স্বপ্নাবিষ্টতা, ইলেকট্রনিক স্মৃতিকাতরতা। হয়তো ঈর্ষাও!

তাঁর কবিতাগুলো তাই আমাদেরই ব্যক্তিগত কথন হয়ে ওঠে। মুহূর্তের ব্যাখ্যান হয়ে ওঠে আমাদেরই ভাবাবিষ্টতার পঞ্জিকা। আর একজন কবির গল্প হয়ে ওঠে একজন প্রতিনিধির গল্প।

ইচ্ছে ছিলো বইটি প্রকাশের সময় দেশে থাকবো। হলো না। তবু তো অপেক্ষায় থাকি। আমার প্রিয় ছোটমামা, কবি রুদ্র বাদলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ! কান্না বিষয়ক শব্দাবলী।

© অমিত আহমেদ

Saturday, February 06, 2010

যে বইগুলোর অপেক্ষায় ৫: লুহার তালা

লুহার তালা
আবু মুস্তাফিজ

প্রকাশক: আহমেদুর রশীদ, শুদ্ধস্বর
প্রচ্ছদশিল্পী: আহমেদ অরূপ কামাল
গল্পগ্রন্থ, ৪৮ পৃষ্ঠা
মূল্য ৯০ টাকা

কবি আবু মুস্তাফিজের ব্লগপরিমন্ডলে অভ্যাগমন নিয়ে আরেক প্রিয় কবি সুমন চৌধুরী লিখেছিলেন, "সাড়া পড়ে গেলো। যারা বুঝলো তাঁরা ছাড়াও যারা বুঝলো না তাঁদের মধ্যেও।"

এই কথাটি যে কতোটা সত্য তা বোঝা যায় কবি আবু মুস্তাফিজ ওরফে শাপলু, যিনি ব্লগপরিমন্ডলে সবুজ বাঘ নামেই বেশি পরিচিত, তাঁর কবিতা নিয়ে আমার মতো কাব্যাপোগন্ডের অনুরক্তি দিয়ে। যদিও শাপলু'দার ব্লগে হাতেখড়ি বাঁধ ভাঙার আওয়াজ ব্লগে, আমার সাথে তাঁর মোলাকাত সচলায়তনেই।

সচলায়তনে প্রথম যখন পড়লাম, "একটা অবিবাহিত ফন্টেমা", "ধৈর্য ধরে আছি সুনা", "একটা সমন্বিত বাঘ এবং অপরিণত ঘুড়া", এবং "তাহিতি দ্বীপের বাঁহাতি ছোকরা", আটকা পড়ে গেলাম। ব্লগে কবিতার মতো গল্প সেভাবে লিখেননি সবুজ বাঘ। "লুহার তালা" কিংবা "সুভদ্র বাঘ এবং বেলেহাজ বিড়াল"-এর মতো অল্প যে কয়টি লিখেছেন, সেগুলোও তাঁর কবিতার মতোই প্রচন্ড স্বকীয়তায় বিনির্গত।

তাঁর লেখার নিরব পাঠক আমি। কারণ, তাঁর গদ্য ও পদ্যপাঠ পরবর্তী ইন্দ্রজালিক আবহে এক শব্দের বিশেষণ ছাড়া আমার মাথায় আর কিছুই আসে না। আর "দারুন", "দুর্দান্ত", বিশেষণগুলো শাপলুদা'র লেখার প্রেক্ষিতে আমার বরাবরই কেমন যেনো হালকা বলে মনে হয়েছে।

প্রথম মন্তব্য করেছিলাম সম্ভবত "একটা ঘাসখাইকা বাঘ এবং ভুদাই ঘুড়া" লেখাটিতে। যখন দেখলাম জনৈক ব্লগার লেখাটিতে অশ্লীলতার অভিযোগ তুলে আপত্তি জানিয়েছেন তখন বলতেই হলো, "সবুজ বাঘ তাঁর রসস্য শব্দ নির্বাচন ও চটুল বাক্যগঠনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভাবাত্মক গদ্যরচনার একটি নিজস্ব ধরণ সৃষ্টি করেছেন। আমার কাছে তাঁর লেখা ভাল লাগে এ কারণেই। সহব্লগার ... আমার ভালো লাগার এ বিষয়গুলো নিয়েই আপত্তি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বদ্দার (সুমন চৌধুরী) মন্তব্যের সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত - সৃষ্টিশীল সাহিত্যকে ছাড় দিতেই হয়। না হলে যাদের কাছে সংশ্লিষ্ট উচ্চারণের গ্রহণযোগ্যতা আছে তাদের প্রতি অবিচার করা হয়।" মন্তব্যটি তুলে দিলাম কারণ তাঁর লেখা কেনো ভালো লাগে তা ছোট পরিসরে এখানেই প্রকাশ পেয়েছে।

আবু মুস্তাফিজের লেখা, শেষাবধি, আমার মনে হয় স্বগতভাষণ। প্রখর কোনো হাতিয়ার। দিব্যাস্ত্র। যেসব কথা সব সময় বলা যায় না, যেসব কথা সবাই সব সময় শুনতে চায় না, সেসব কথা চিৎকার করে বলার মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায় তাঁর গল্প ও কবিতা। সাহিত্যচর্চার পোশাকি ভাষা ও মেজাজ ছুঁড়ে ফেলে তিনি তুলে নেন তাঁর নিজস্ব শব্দাবলী। তৈরি করেন নিজস্ব বাস্তবতা। বাস্তবতার রূপকথা। নিজস্ব পাঠকগোষ্ঠী।

আবু মুস্তাফিজের লেখা তাই যেনো আমার কাছে দম দেয়া কোনো অ্যালার্ম ঘড়ি। তাঁর লেখা তো পড়লেই পড়া হয়ে যায় না। বরং অ্যালার্মের তীক্ষ্ণতায় গা ঝাড়া দিয়ে লৌকিকতার মোড়ক খুলে উঠে দাঁড়ায় পৃথিবী। খসে খসে পড়ে সামাজিকতার পলেস্তারা। আর আমরা ধন্দ লাগা চোখে সেই নিরাভরণ পৃথিবীর রঙ দেখি। এ এক প্রচন্ড লোভ। আর সেই লোভেই অপেক্ষায় থাকি লেখক আবু মুস্তাফিজের প্রথম গল্পগ্রন্থ "লুহার তালা"র।

শত হলেও এ পিথিবি তো নিদান্তই একটা ভ্রান্ত ধারমা!

© অমিত আহমেদ

Wednesday, February 03, 2010

যে বইগুলোর অপেক্ষায় 8: জাহাজী যাযাবর

জাহাজী যাযাবর
আনিস হক

প্রকাশন: প্রগতি প্রকাশনী
প্রচ্ছদশিল্পী: ধ্রুব এষ
ভ্রমণ ও জীবন কাহিনী, ৮০ পৃষ্ঠা
মূল্য ১০০ টাকার কম

দুই বছর আগের কথা। সচলায়তনে হালকা চালে একটি লেখা পড়তে গিয়ে আমার হতভম্ব অবস্থা! ব্লগের কোনো লেখা আমি সাধারণত একবারের বেশি পড়ি না। সেই লেখাটি আমি পর পর দুইবার পড়লাম। মন্তব্যে লিখলাম, "এই সিরিজটি সম্ভবত একটি এপিক হতে যাচ্ছে!" অনেক ধারাবাহিক লেখাই যে প্রত্যাশা নিয়ে শুরু হয় তা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারে না। কিন্তু কয়েক পর্ব পড়ে আমার প্রথমপর্বের সন্দেহ নিঃসন্দেহে পরিণত হলো। আমি সদম্ভে ঘোষণা দিলাম, "এখানে এসে (আমি) নিশ্চিত যে প্রথম পর্বে যা লিখেছিলাম তা-ই সত্য। এই সিরিজটি নিঃসন্দেহে একটি এপিক হতে যাচ্ছে!"

মানব সম্প্রদায়ে অভিযানের ব্যুৎপত্তি চাহিদা থেকেই। শখ করে আদিম মানুষ কখনোই যাযাবর হয়নি। খাদ্য-পানীয়ের সন্ধানে, আবহাওয়া-প্রকৃতির দাপটে, রোগ-মহামারির আক্রমনে, অত্যাচারী শাসকের অত্যাচারে নিরুপায় হয়েই আদিম মানুষ ঘর ছেড়েছে। পা বাড়িয়েছে অজানায়। সেই থেকে মৌলিক চাহিদার চৌহদ্দি পেরিয়ে আমাদের রক্তে মিশে গেছে অভিযানের নেশা।

তাই ডাক্তারির পাট শেষ করে খুব পড়ুয়া কোনো যুবক বেড়িয়ে পড়ে মোটরসাইকেল চড়ে। খুব সাধাসিধে গোবেচারা কোনো মানুষ একদিনের জন্য হলেও ফেলে দেন তাঁর দৈনন্দিনতার পাট। ঘরকুনো কোনো মানুষ লিখে ফেলেন আশি দিনে বিশ্বভ্রমনের উপাখ্যান। আর তেহরানে তিতিবিরক্ত হয়ে, ইস্তান্বুলের কারখানায় ইস্তফা দিয়ে, গ্রীসের ভ্যোলা বন্দরে বাক্কিস জাহাজে খালাসির খাতায় নাম লেখায় বাঙালি তরুন আনিস হক।

সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কি আবশ্যকতা ছিলো? ছিলো হয়তো। তবে সব ছাড়িয়ে ছিলো অভিযানের নেশা। সেই নেশার গন্ধ আমরা পাই আনিস হকের লেখার পরতে পরতে। সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। ভাঙা-চুরো ছোট্ট জাহাজ বাক্কিসের কালো তেলে হাত মাখিয়ে, নোনা বাতাস আর সূর্যরেণু বুকে নিয়ে, পাড়ি দিয়েছেন এ্যকরোপোলিস থেকে সাইপ্রাস। স্যালোকিনি। সিসিলি। আরব রাজ্য পেরিয়ে লোহিত সাগর। অতলান্তিক হয়ে কালো এলপিদা।

এসব অভিযানের সবটুকুই যেনো চোখের সামনে বায়োস্কোপের মতো ভেসে ওঠে লেখক আনিস হকের লেখায়। তিনি ছোট ছোট বাক্যে লেখেন, কোনো দ্ব্যর্থতা ছাড়াই। গল্প বলেন এক পোড় খাওয়া নির্লিপ্ততায়। তাঁর বর্ণনা হয় অকপট, আঁটসাঁট। বেগবান কাহিনীর বিন্যাস। আমরা তাই খুব সহজে গল্পে ঢুকে যাই। আমাদের বাস্তবজ্ঞান লোপ পায়। মনে হয় বন্দর থেকে উড়ে আসা বালুকনা জমছে রোমকূপে। প্রচন্ড গরমে, মেশিনরুমে, হাতে-গায়ে তেল-কালি লাগে আমাদেরও। প্রচন্ড খাটুনিতে, ঘামে ভিজে, শরীর চিটচিট করে। লেখকের সাথে আমরাও নৌকা উল্টে পড়ি হাঙররাজ্যে। প্রচন্ড ঝড়ে বাক্কিসের ডেকে সাগরের নোনোজল আমাদের ভিজিয়ে দিয়ে যায়। আর নাইজেরিয়ার কালোমেয়ে শুনিয়ে দিয়ে যায় সে-ই কবে গত হয়ে যাওয়া ভারতবর্ষের গৌরবগাঁথা। পরদেশের সোঁদা মাটির গন্ধে আমাদেরও চোখে পানি আসে সোনার বাংলার কথা ভেবে। আরে, সবশেষে এ তো এক বাঙালিরই গল্প! যে বাঙালি জীবনযুদ্ধে হার মানে না। প্রচন্ড প্রতিজ্ঞা নিয়ে পৃথিবীর বন্দরে বন্দরে রেখে আসে বাংলাদেশের পদচিহ্ন!

এভাবে অজানার উদ্দেশ্যে তো পাড়ি দেয়া হয়নি আমার। সেই স্বপ্ন পুষে রেখেছি মনে। তাই তাঁর লেখা পড়তে পড়তে অজান্তে মন্তব্যে শপথ করেই ফেলি, "(তীরুদা) জাহাজে আমি কাজ করবোই করবো এটা আপনাকে জানিয়ে রাখলাম।" তাঁর বই আমাকে স্বপ্নপূরণের আশা দেখায়। আমি মন্তব্য রাখি, "(ধারাবাহিক) লেখা শেষ হলে স্থিরচিত্র আর মানচিত্র দিয়ে একটি বই করলে কী যে চমৎকার একটি ব্যাপার হবে!"

সেই বই অবশেষে বের হচ্ছে। পরিমার্জিত, পরিবর্ধিত হয়েই। এতো স্বপ্নপূরণ! প্রিয় লেখক ও অভিযাত্রী আনিস হকের বইটি তাই আমার একটি স্বপ্নপূরণের বই!

© অমিত আহমেদ

Monday, February 01, 2010

যে বইগুলোর অপেক্ষায় ৩: মিহিদানা দিনলিপি

মিহিদানা দিনলিপি
নজমুল আলবাব

প্রকাশক: নজমুল আলবাব, শস্যপর্ব
পরিবেশক: পাঠসূত্র প্রকাশনী
প্রচ্ছদশিল্পী: ইসমাইল গনি হিমন
কাব্যগ্রন্থ, ৩২ পৃষ্ঠা
মূল্য ৮০ টাকা

নজমুল আলবাব ভাইকে নিয়ে আমি বেশি কিছু লিখতে পারি না। কেনো পারি না তা একটি পোস্টে বলেছিলাম, "সব মানুষের মধ্যেই কিছু ব্যাপার থাকে যেগুলো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। অপু ভাইয়ের মধ্যে সেই রকমের ব্যাপারগুলোই বেশি।"

একজীবনে অনেক পরিচয়ই আমাদের সংগ্রহ হয়। সন্তান, বাবা, ভাইয়ের মতো পারিবারিক পরিচয়গুলো সাথে নিয়ে আমরা হয়ে উঠি বন্ধু, সহকর্মী, নেতা। কখনো এসব পরিচয় অতিক্রম করে হয়ে উঠি শিল্পী, কবি, কিংবা লেখক।

তবে সব্যসাচী কবি-লেখক নজমুল আলবাবকে নিয়ে বলতে গেলে ব্যক্তি নজমুলকে নিয়ে কথা বলতেই হবে। কারণ, আমার চেনা-জানা মানুষের মধ্যে একমাত্র কবি নজমুল আলবাবই এসব পরিচয় একটি মাত্রায় এনে বিচরণ করেন।

তিনি যেমন মানুষ তাঁর লেখাগুলোও তেমনই। তিনি যেমন ভাবেন তাঁর কাব্যগুলোও তেমনই। তাই সন্তানের জন্য ভালোবাসা থাকে তাঁর গদ্য জুড়ে। প্রেমিকার জন্য প্রেম কবিতা জুড়ে। তাঁর ছন্দে থাকে জন্মদাতা-দাত্রীর জন্য বিনম্র শ্রদ্ধা। সামরিকজান্তার বাড়াবাড়িতে তাঁর শক্ত হয়ে ওঠা চোয়াল। যুদ্ধপরাধীর জন্য পুষে রাখা ঘৃণা। অর্থনৈতিক টানাপোড়ন। জীবনের অসহায়ত্ব, অপারগতা, আর কান্না।

ফেলে আসা দিন, বন্ধুরা তাঁর গল্পে ঘুরে বেড়ায়। সেসব লেখায় আমরা অন্য এক জগতের সন্ধান পাই। যেখানে ছোট কোনো শহরে, রূপকথার জগতে, চোখ ভরা স্বপ্ন আর হৃদয়ে ভালোবাসা নিয়ে বড় হয়ে ওঠে একদল কিশোর-কিশোরী। আমরা তাদের স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের সঙ্গী হই।

তাঁর কবিতায় যেমন থাকে হাকাকার, তেমনি থাকে হঠাৎ পাওয়া কোনো আনন্দের বৃত্তান্ত। তাই তাঁর কবিতাগুলো শুধু হতাশার নয়। জীবনের জয়গান, হাল না ছাড়ার প্রতিজ্ঞাও। তাঁর গল্প-কবিতা তাই আর শুধু গল্প-কবিতা থাকে না। হয়ে ওঠে তাঁর, আপনার-আমার, আমাদের সব মধ্যবিত্ত বাঙালির জীবনগল্প।

কবি নজমুল আলবাবের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হচ্ছে এবারের বইমেলায় "মিহিদানা দিনলিপি" - দৈনন্দিনতার ছন্দে বাঁধা জীবনযাত্রা। এই বইয়ের অপেক্ষায় না থেকে কিভাবে পারি?

© অমিত আহমেদ

বি:দ্র: আজ, ১লা ফেব্রুয়ারি, নজমুল আলবাবসেলিনা তুলি পুত্র বাবাই এর জন্মদিন। বাবাই, তুমি ভাগ্যবান অপু ভাই ও তুলি আপুর মতো বাবা-মা পেয়েছো। শুভ জন্মদিন!

যে বইগুলোর অপেক্ষায় ২: কাঠের সেনাপতি

কাঠের সেনাপতি
তারেক নূরুল হাসান

প্রকাশক: নজমুল আলবাব, শস্যপর্ব
পরিবেশক: পাঠসূত্র প্রকাশনী
প্রচ্ছদশিল্পী: নজরুল ইসলাম
গল্পগ্রন্থ, ৬8 পৃষ্ঠা
মূল্য ৮০ টাকা

লেখক তারেক নূরুল হাসান ওরফে ব্লগার কনফুসিয়াসের লেখা নিয়ে নতুন কিছু বলা আমার জন্য কষ্টকর। কারণ ওর লেখা নিয়ে এর আগে অসংখ্য মন্তব্যে, পোস্টে বলেছি। তাই পোস্টটি হয়তো আগের বলা কথাগুলোরই সমষ্টি হবে।

তারেকের লেখার সাথে আমার প্রথম পরিচয় এক বড়ভাই এর মাধ্যমে। তখন ব্লগে নতুন বলে তাঁর কাছে জানতে চাইছিলাম - ব্লগে কার কার লেখা ভালো লাগে বলুন তো? তিনি বেশ করেকজন ব্লগারের সাথে সাথে কনফুসিয়াসের নামটিও বললেন।

কনফুসিয়াসের ঠিক কোন লেখাটি প্রথম পড়েছিলাম এখন আর তা মনে নেই। তবে সেটা খাঁটি ব্লগ যাকে বলে, তাই ছিলো। আকারে বড় নয় বলে চট করে পড়ে ফেলা যায়, আর সে ছোট্ট পরিসরেই লেখকের যা বলার বলা হয়ে যায়। এ ধরণের লেখায় ব্লগ সাইটগুলো ভর্তি। তবু কেনো কনফুসিয়াসের লেখাগুলি আমার এবং অন্যদের আলাদা ভাবে ভালো লাগতো?

প্রথম কারণটা অবশ্যই ওর ভাষাশৈলী। তারেকের শব্দনির্বাচন এবং বাক্যগঠনে অস্থিরতার ছাপ কম থাকে বলে একদম ছোট একটি লেখা পড়ার পরেও মনে হয় না লেখাটি ছোট ছিলো। তাই তারেকের অণুগল্পগুলো পড়ার পরেও পূর্ণগল্প পড়ার মতোই অনুভূতি হয়। আরেকটি জিনিস যা ভালো লাগে তা হলো ওর পরিমিতিবোধ। লেখালেখি যারা করেন তাঁদের অনেকেরই অভ্যাস থাকে এক গল্প বলতে গিয়ে অন্য গল্প শুরু করে দেয়া, যেটা হয়তো সবসময় প্রাসঙ্গিক হয় না। কোন অংশটুকু পাঠকের কল্পনার উপরেই ছেড়ে দেয়া ভালো সেটা তারেক খুব ভালো বুঝতে পারে। তারেকের পরিমিতিবোধ দেখা যায় ওর উপমা ব্যবহারেও। কিছু কিছু উপমা ব্যবহার করে তারেক যেগুলো দুর্দান্ত বললেও কম বলা হয়। এমন অনেকবার হয়েছে আমি তারেকের কোনো একটি বাক্য একাধিকবার পড়েছি কেবল একটি উপমার লোভ সামলাতে না পেরে।

গল্পের কথা যদি বলি - গতানুগতিক একঘেয়ে গল্প তারেক লেখেনি। ওর গল্পে যেমন পারিবারিক টানাপোড়ন, রহস্য-রোমাঞ্চ এসেছে, তেমনি এসেছে প্রবাস জীবন, একাকিত্ব, আর ভালোবাসা। তারেকের লেখাও কিন্তু একরকম থাকেনি। ব্যক্তিগত জীবনে একাগ্র পাঠক তারেকের ভাবনায় চলে এসেছে অন্যদের ভাবনা-চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গী, এবং গল্প বলার ধরণ। নিজেকে অন্যদের গল্পে বসিয়ে তারেক পৃথিবী দেখেছে। সেই মনে ভর করে ক্রমাগত ভেঙেচুরে সাজিয়েছে তার লেখা। পাঠক হিসেবে সেই বিবর্তনে মিশে যাওয়ার মধ্যেও উত্তেজনা আছে।

সহব্লগার, যাঁরা কাছের মানুষ হয়ে গিয়েছেন, তাদের মধ্যের তারেকের সাথেই সম্ভবত আমার সবচেয়ে পরে ব্যক্তিগত যোগাযোগ হয়েছে। হাসিখুশি মানুষ তারেকের সাথে মন খুলে কথা বলা যায় যে কোনো বিষয়েই। অল্পতেই রাগ নেই। সাহায্যের হাত সব সময় খোলা। গত বইমেলার আগে আমার বইয়ের কাজ চলছিলো যখন, তখন পদে পদে বিরক্ত করেছি তারেক ও তিথিকে। লেখা, প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে লেখকের ছবি সহ এমন কিছু নেই যা নিয়ে ওদের সাথে আলাপ করিনি, সাহায্য পাইনি। খুব কাছের মানুষ ভাবলেই এমন ভাবে কারো যন্ত্রনা সহ্য করে মানুষ।

গতবার আমার আর শিমুলের খুব ইচ্ছে ছিলো আমাদের তিনজনের বই একসাথে বের হোক শস্যপর্ব থেকে। গতবার হয়নি। তবে এবার আসলেই প্রকাশিত হচ্ছে লেখক তারেক নূরুল হাসান, প্রিয় ব্লগার, বন্ধুবর কনফুসিয়াসের ছয়টি গল্প নিয়ে গল্পগ্রন্থ "কাঠের সেনাপতি"। এই বইটির জন্য তো অপেক্ষায় থাকতেই হবে! হবেই!

© অমিত আহমেদ