Saturday, March 20, 2010

গল্প: অনাহূত আগন্তুক

পাঠপূর্ব হিতকথা
এটা পূর্ণাঙ্গ গল্প। কিস্তি-টিস্তির বালাই নেই। তাই আকারে প্রকান্ড। আগেই ভাগেই জানিয়ে দেয়া জরুরি মনে করলাম।

এক

এনযো স্কদিত্তি কৌতুহল নিয়ে চেয়ারের সাথে হাত-পা বাঁধা যুবককে দেখে। চেতনা নেই। মাথা বামদিকে নুয়ে আছে। এলোমেলো চুল ভিজে গেছে ঘামে। খুলির বামদিকে কেটে গেছে বেশ অনেকটাই। সেখান থেকে চুল বেয়ে পনেরো সেকেন্ড অন্তর অন্তর রক্তের ফোটা ঝরছে। টপ টপ!

বোঝাই যাচ্ছে ছোকরা ধরা পড়ার সাথেসাথেই তাকে ডাকা হয়নি। আগে একদফা মারধোর করা হয়েছে। এনযো বিরক্ত হয়। হাতে একদমই সময় নেই। এখন প্রতিটা মিনিটের গায়ে আলাদা করে দাম লেখা আছে। এই অবস্থাতেও গর্দভগুলো মাথা ঠান্ডা রাখতে পারে না! এনযো মুখে কিছু বলে না; বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে একে একে ঘিরে দাঁড়ানো তিনজনের দিকে তাকায়। তিনজনই সন্ত্রস্ত ভঙ্গিতে অটোমেটিক এম-সিক্সটিন ধরে আছে।

আবার ফিরে তাকায় এনযো। কে হতে পারে?

চেহারা দেখেই সব বলে দিতে পারে বলে নাম আছে এনযোর। অভিজ্ঞতা তো আর কম হলো না! বড় হয়েছে আপটাউনের ইটালিয়ান পাড়ায়। ছেলেবেলা থেকেই চালাচালি আর মারদাঙ্গায় গা সয়ে গেছে। সতেরো বছর বয়সে নাম লিখিয়েছিলো ফিলিপ্পো পরিবারের পারিবারিক ব্যবসায়। এই ব্যবসায় গাফলতির ক্ষমা নেই। বিশ্বাসঘাতকের রেহাই নেই।

অনেক আগের কথা। এনযো আর জিয়ান্নির নাম তখন সবে ফিলিপ্পো পরিবারের খাতায় উঠেছে। জিয়ান্নি বয়সে বড় ছিলো। পঁচিশ কী ছাব্বিশ। ওর বন্ধু ছিলো ফিওন। ইটালিয়ান নয়, সোনালী চুলের আইরিশ। দুই দোস্ত মিলে তখন আপটাউন মাতিয়ে রাখে। একসাথে ক্লাবে যায়। মদ খায়। মারামারি করে। গোলাগুলি করে। মেয়ে নিয়ে মোটেলে ওঠে। মনে আছে জিয়ান্নির চাপাচাপিতেই বুড়ো সান্তো ফিলিপ্পো ওদের সাথে সাথে ফিওনকেও দলে নিয়ে নিলো। পরে জানা গেলো ফিওন আসলে পুলিশের সোর্স!

জানা জানি হবার পরে ফিওনের কিচ্ছু হলো না। তবে দু'দিন বাদে জিয়ান্নির লাশ পাওয়া গেলো ব্ল্যাক ক্রিক পার্কে। সেই থেকে কারো সাথে পরিচয় হলেই তাকে যাচাই করে নেবার অভ্যাস এনযোর। শখে নয়, এটা আত্মরক্ষার জন্যই।

তবে এই যুবককে দেখে এনযো কিছুই ধরতে পারে না। নিখুঁত চুলের ছাঁট। পয়সাওয়ালা ধনীর দুলালেরা দু'শো ডলার দিয়ে এভাবে চুল কাটায়। শরীরে দামী স্যুট। কোনো লেবেল নেই। তার মানে এমন কারো শেলাই করা যিনি নির্দিষ্ট কয়েকজন খদ্দের ছাড়া আর কারো কাজ করেন না। বাকি সবও পয়সার কথাই বলে। গুচি জুতো, রোলেক্স ঘড়ি, সাদা সিল্ক শার্ট। অন্য সময় হলে এনযো হয়তো তাই ভাবতো। কিন্তু কিছু ব্যাপার খাপ খাচ্ছে না।

একে ছেলের লম্বা পেটানো শরীর। না শখ করে বানানো শরীর এ নয়। এসব দেখলেই বোঝা যায়। আর, শরীর জুড়ে অসংখ্য ক্ষতচিন্থ। কিছু দাগ চিনতে পারে এনযো। তার নিজেরও আছে। সে পঞ্চাশে পড়লো গত সপ্তাহে। আর এই ছেলের বয়স সাতাশের বেশি হবে না। তবু ছেঁড়া শার্টের ফাঁকে পুরানো চিন্থগুলোর নমুনা দেখে শিউরে ওঠে স্কদিত্তি!

অন্য সময়, অন্য কেউ হলে, এনযো এতো ভাবতো না। সরাসরি কপালে একটা বুলেট ঢুকিয়ে দিতো। পারছে না এই দাগগুলোর জন্যই। যে ছেলে এতো ক্ষতচিন্থের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে, তাকে কিছুতেই অচেতন অবস্থায় গুলি করে মারা যায় না। এতো হারামী এনযো হয়নি এখনো!

"মার্কো, লুসিও, জিরাল্ডো... হা করে মুখের দিকে তাকিয়ে আছিস কেনো হারামজাদারা? যা পানি নিয়ে আয় এক্ষুণি। মুখে ছিটিয়ে দে।" পাশে দাঁড়ানো ছেলেগুলোর দিকে তাকিয়ে খেঁকিয়ে ওঠে এনযো স্কদিত্তি।